ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবরুদ্ধ নির্যাতিতা এক গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ধরনিধরদী গ্রাম থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ওই গৃহবধূকে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তাপস বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতিত গৃহবধূ রেহেনা পারভিন (৩২) জানান, সাড়ে ছয় বছর আগে ধরনিধরদী গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন শেখের ছেলে মজিবর রহমান শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বড় ছেলের জন্মের ৬ মাস পর থেকেই নানা ছুতোয় তাকে বাড়ির সবাই মিলে মারধর করে। স্বামী মজিবর রহমানের সঙ্গে শাশুড়ি শাবজান বেগম, ভাশুর ফরিদ শেখ ও আফসার তাকে নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার সকালে তাকে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
দুই ছেলের সঙ্গে হাসপাতালে নির্যাতিতা গৃহবধূ। ছবি: ইত্তেফাক
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, তিনি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ওয়াসিকুল ইসলাম সাতৈর সঙ্গে একটা মিটিংয়ে ছিলেন।
আরো পড়ুন: বিআরটিসিতে দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি: ওবায়দুল কাদের
এসময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইলা রানি কুন্ডুর নিকট থেকে বিষয়টি জানার পর দুজন মিলে অভিযান চালিয়ে স্বামীর বাড়িতে আটক অবস্থায় থাকা রেহেনাকে উদ্ধার করা হয়। রেহেনার দুই শিশু ছেলে তার সঙ্গে রয়েছে।
এদিকে ইউএনও বাড়িতে হাজির হওয়ার পর রেহেনার স্বামী মজিবর রহমান পালিয়ে গেছেন।
রেহেনার ভাশুর ফরিদ শেখ জানান, রেহেনা তার স্বামীকে গালিগালাজ করতেন। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ওই গৃহবধূ সুস্থ হয়ে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে তাকে সে সুযোগ করে দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
