বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বে গ্রুপের শেষ তিনটি ম্যাচ খেলার জন্য কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ম্যাচ দেখছেন মাঠে বসে। খেলোয়াড় খুঁজছেন। নতুন কোনো মুখ পাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে কাজ করছেন জেমি।
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ের বাদ বাকি ম্যাচ মার্চে হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। তবে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। কারণ এরই মধ্যে একাধিক দেশ এক ভেন্যুতে খেলার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। কিন্তু বাফুফে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এখনো ধরে নিতে হচ্ছে হোম ম্যাচ তিনটি বাংলাদেশেই হবে। তবে ম্যাচ যেখানেই হোক বসে থাকতে রাজি না কোচ। খেলোয়াড় সিলেকশনের কাজ এগিয়ে রাখছেন তিনি।
শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রতিভা বাছাইয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জেমি বলেন, ‘২২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুশীলন শুরু করতে চাই। সামনে খেলা আছে। এখন থেকে পরিকল্পনা না করলে পিছিয়ে যেতে হবে।’ কী পরিকল্পনা করছেন জানতে চাইলে কোচ হেসে বললেন, ‘সবকথা বলব কেন।’ জেমি খুব আমুদে মানুষ। সবার সঙ্গে হাসি আনন্দ নিয়ে কথা বলেন। পরক্ষণেই বললেন, ‘নতুন মুখ নেব। আমি মাত্র দেখছি। দেখি সামনে কী হয়।’
খুব হতাশ হয়েছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন গোল না পাওয়ার কথা শুনে। জীবন ফেডারেশন কাপ ফুটবলে গোল পায়নি। লিগ শুরু হয়ে গেল গোল পায়নি। দুই-তিন ম্যাচ চলে গেছে খেলতেও পারেননি তিনি। জীবন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জেমি বললেন, ‘জীবন খেলছে না। তার ওপর ইনজুরি রয়েছে। গোল পাবে কোথায়।’ কোচের কণ্ঠে হতাশা। নিজেই বলছিলেন লিগে গোল করছে বিদেশিরা।
ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় ফিরে আইসোলেশনে থাকাকালীন কোচ টিভির পর্যায় খেলা দেখেছেন। বিদেশিরা গোল করছেন প্র্যত্যেক ম্যাচই বল পাচ্ছেন তারা। এসব দেখে কোচের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। জাতীয় দলে গোলের দায়িত্ব যার ওপর, সে গোল পাচ্ছে না। আবাহনীর অধিনায়ক জীবন। একই সঙ্গে তিনি স্ট্রাইকার। অথচ দলের খেলায় জীবন খেলছেন স্ট্রাইকারদের পেছনে। জাতীয় দলের খেলায় জীবনকে স্ট্রাইকারের দায়িত্ব নিতে হয়। জীবনও বলছিলেন কী করব। আমাকে যেখানে খেলানো হবে আমি সেখানেই খেলব। জীবনের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস তিনি গোল পাবেন। লিগের অনেক ম্যাচ বাকি আছে। গোল পাওয়ার সুযোগ এখনো শেষ হয় যায়নি।
জীবন সম্ভাবনা দেখলেও হতাশ কোচ। বিদেশিরা গোল করলে জাতীয় দলের উপকারটা কী। এমন প্রশ্ন নিজেই তুলছেন তিনি। হতাশ হয়ে বলছিলেন জীবনকে যদি গোলের জায়গায় না রাখা হয় তাহলে কী করার আছে। যারা ক্লাব ফুটবল পরিচালনা করেন তারাই যদি বিদেশি স্ট্রাইকার নিয়ে লড়াই করেন এটাত করতে পারেন। দেশের খেলায় জাতীয় দলের স্ট্রাইকার একটু পিছিয়ে থাকবে।
জেমি আশাবাদী মানুষ। জীবন গোল না পেলেও অন্য স্ট্রাইকার গোল পেয়েছেন সেটিও মনে করিয়ে দিলেন তিনি। বসুন্ধরা কিংসের তৌহিদুল আলম সবুজ। উত্তর বারিধারা ক্লাবের সুমন রেজাও দারুণ খেলছেন।
ইত্তেফাক/এএএম
