ইত্তেফাক রিপোর্ট
গেল বছর ২০১৮ সালের শুরুতে চীন-মার্কিন পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে প্রক্ষেপণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বছরের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানির যানবাহনে জ্বালানি ব্যবহারে নতুন মান নির্ধারণ, ইতালিতে সার্বভৌম আর্থিক ঝুঁকি, তুরস্কের আর্থিক সংকোচন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য শঙ্কা আরও বাড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আইএমএফ।
বিশ্ব অর্থনীতির হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ২০১৯ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাড়ে তিন শতাংশে নেমে আসতে পারে। ২০২০ সাল নাগাদ এই হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ২০১৮ সালে বিশ্বে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গেল অক্টোবরে বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছিল চলতি ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধির এই হার সাড়ে তিন শতাংশে নেমে আসতে পারে। এবারের হালনাগাদ প্রতিবেদনে আগের এই প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর গেল আগস্ট থেকেই উঠা-নামা করছে। চলতি জানুয়ারির শুরুতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ৫৫ ডলারে উঠেছে। আগামী চার-পাঁচ বছর প্রত্যাশার চেয়ে বেশিই থাকবে জ্বালানির দর। অবশ্য গত আগস্ট থেকেই ধাতব পদার্থের দাম কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। এর বড় কারণ হলো বিশ্ব বাজারে চাহিদা কমে গেছে, বিশেষ করে চীনের বাজারে। তেলের দাম কম থাকায় উদীয়মান দেশগুলোর অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বছরের শুরুতে মার্কিন ডলার তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হলেও ইউরো প্রায় ২ শতাংশ দর হারিয়েছে। অন্যদিকে ব্রেক্সিট ইস্যুটি ঘিরে যুক্তরাজ্যে চলমান অনিশ্চয়তার ফলে পাউন্ড দুই শতাংশ অবচয় হয়েছে। অন্যদিকে জাপানি মুদ্রা প্রায় তিন শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়েছে। উদীয়নমান দেশগুলোর মধ্যে টার্কিস লিরা, আর্জেন্টাইন পেসো, ব্রাজিলিয়ান লিরা, সাউথ আফ্রিকান রেন্ড, ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ইন্ডিয়ান রুপিসহ অনেক মুদ্রা গেল আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়কালের দরে উঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইএমএফ এর হালনাগাদ পূর্বাভাস প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ৬০ ডলারের নিচেই থাকবে। বছর ব্যবধানে ধাতব পদার্থের দর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কম থাকবে। এবছর কৃষিপণ্যের দামও কমতির দিকে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীন-মার্কিন বাণিজ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে উদীয়মান এশিয়ার অর্থনীতি গড়ে সাড়ে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে। অবশ্য জ্বলানি তেলের দর কম থাকা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কম থাকায় ভারতের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হবে। ইউরোপের অর্থনীতি কিছুটা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করা হলেও আফ্রিকার অর্থনীতি সাড়ে তিন ভাগ সম্প্রসারিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
