সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের যেকয়টি খেলা য়েছে সেটি কাতারে হবার গুঞ্জন চলছে। এক দেশে সব ম্যাচ আয়োজনের জন্য পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু এসব কথা শুনে হতাশই হয়েছেন বাংলাদেশের ইংলিশ ফুটবল কোচ জেমি ডে। তিনি চাইছেন সব খেলা যেন বাংলাদেশেই হয়। তার পরিষ্কার কথা, এতে বাংলাদেশেরই লাভ হবে।
কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের গ্রুপের খেলা মার্চে আফগানিস্তান এবং জুনে ভারত এবং ওমানের বিপক্ষে লড়াই। এই তিন ম্যাচ নিয়েই এখন ফিফা এএফসির টেবিলে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। বেশ কিছু দিন আগে বাফুফে বলছিল আফগানিস্তান আসতে চায় না। তারা অন্য দেশে খেলতে চায়। আফগানিস্তান সেই চেষ্টা করছে। এএফসিকে চিঠিও নাকি দিয়েছে। আর অন্যদিকে কাতার বাংলাদেশের গ্রুপের সব ম্যাচ আয়োজন করতে চায়। যদি সেটাই হয় তাহলে বাংলাদেশকে কাতার গিয়ে খেলতে হবে। এক সঙ্গে সবকয়টি ম্যাচও সেখানে হয়ে যাবে। বাফুফে এখনো বলছে সব ম্যাচ ঢাকায় হবে। তবে এটাও ঠিক যেন এএফসি হতে এই বিষয়টি নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কোচ জেমিও যেন কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে জেমি চাইছেন সব খেলা বাংলাদেশে হোক। গত সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ কোচ কুমিল্লায় গিয়েছিলেন প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংসের খেলা দেখতে। সেখানেই বিশ্বকাপের বাছাই ম্যাচ নিয়ে কথা উঠে। জেমিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা কোথায় হবে। তিনি পরিষ্কার জবাব দেন বাংলাদেশে খেলতে চান। জেমি বলেন, ‘আমি শুনেছি অন্য কোনো দেশে হতে পারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত না। এখনো বাফুফে থেকে কিছু জানায়নি।’
কোথায় খেলা হলে ভালো হয়? জেমি বললেন, ‘অবশ্যই বাংলাদেশে খেলা হলেই ভালো হবে। আমাদের হোম ম্যাচ। আমাদের মাঠে খেলা হলে এখানকার দর্শক পাওয়া যাবে। দর্শক মাঠে আসতে পারছে। এখানকার মাঠের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মানিয়ে নেওয়ারও বিষয় থাকবে না। সব কিছুর সঙ্গেই পরিচিত।’ আর যদি কাতারে খেলা হয়? জেমি বললেন, ‘এটা খুব ভালো হবে না। ওখানে গিয়ে আইসোলেশন করতে হবে। ওখানে গ্যালারির সুবিধাটা পাবে না বাংলাদেশ। কাতার কেন অনেক দেশেই এখন দর্শক মাঠে ঢুকতে পারছে না। আমরা কাতারের বিপক্ষে একটা ম্যাচ খেলে এসেছি। গ্যালারিতে দর্শক প্রবেশ নিয়ে বিধিনিষেধ ছিল।’
প্রস্তুতির জন্য বিদেশের মাঠে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না এমন প্রশ্নে জেমি বললেন, ‘আমি দেখছি না যাওয়ার প্রয়োজন আছে। যেতে চাইলে সুযোগ নেই। কারণ বিদেশে অনুশীলন করতে গেলে সেখানে আইসোলেশনে থাকতে হবে, সময় নষ্ট হবে। তার চেয়ে ঢাকায় ভালো আছি।’
