উজান থেকে আসা কয়লার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদনদী

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪১

বর্ষায় উজান থেকে ঢলের পানির সঙ্গে ভারতের কয়লা খনিগুলো থেকে নেমে আসা বর্জ্য সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি ব্যাপকভাবে দূষিত করছে। ফলে এই অঞ্চলের মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে যায়। গবেষকরা বলছেন এ কারণে সিলেটে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই পানি ব্যবহারের ফলে সীমান্ত এলাকার মানুষের নানা অসুখ দেখা দিচ্ছে। এই সব নদ-নদীর মাছ খেয়ে লোকজন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে—এমনি তথ্য পাওয়া গেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায়।

এই দূষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডের নেতৃত্বে ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের এনএটিপি ফেইজ-২ প্রকল্পের অর্থায়নে ২০১৮ সাল হতে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ড ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণের মাধ্যমে জলজ জীব-বৈচিত্র্যরক্ষার আশু ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর কুন্ড বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নয়ন অবশ্যই সম্ভব। তবে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘হাওর-নদী দেশের সম্পদ। এ থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ উত্পাদন হয়। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে বিশেষ করে মিঠা পানির অত্যন্ত সুস্বাধু ও উপকারী মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই মাছ খেয়ে গ্রামের মানুষ বেঁচে আছে। কিন্তু পরিবর্তিত প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এই মাছ থাকবে কি না তা সন্দেহ।’ তিনি বলেন, এ জন্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যায়ের মত্স্য গবেষকদের গবেষণার মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ করে আগাতে হবে।

গবেষকরা জানান, কয়লার বর্জ্য হতে নির্গত বিভিন্ন ধরনের ভারী ধাতু মাছের দেহে জমা হয়। তাছাড়া নদীর তলদেশের মাটিতে জমে থাকা এসব বর্জ্য ধীরে ধীরে নিঃসারিত হয়ে খাদ্য চক্রের মাধ্যমে মাছের দেহে আরো বাড়তে থাকে। কয়লা মিশ্রিত পানি জলাশয়ের জীববৈচিত্র্যকে হুমকির সম্মুখীন করে।

সারি-গোয়াইন নদীতে এই গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন, কো-প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ড. আহমেদ হারুন-আল-রশীদ এবং প্রফেসর কুন্ডের পিএইচডি ছাত্র দেবাশীষ পণ্ডিত। দেবাশীষ জানান, গবেষণায় নদীর পানি, কাদায় ও মাছের দেহে বিভিন্ন ক্ষতিকর ভারী ধাতু যেমন :কপার, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ফেরাম, লেড, নিকেল ইত্যাদি গ্রহণযোগ্য মাত্রা থেকে বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে।

‘মাছ ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে এইসব ভারী ধাতু মানুষের দেহে প্রবেশ করছে যা ক্যানসারসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে’, এই তথ্য জানিয়ে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা বলেন, গত ২৫ বছরে সারি-গোয়াইন নদী ও তত্-সংলগ্ন জলাশয় সমূহ থেকে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ হারিয়ে গেছে কয়লা ধোয়া পানির দূষণে। বিজ্ঞানীরা আরো জানান, ‘শুধু মাছই নয় অন্যান্য জলজ জীব বিশেষ করে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যও ধ্বংস হয়েছে একই কারণে।’