ব্রিকস জোটের ব্যাংকে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৩

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নামের আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)-এর সদস্য হতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এই ব্যাংকে যোগ দেওয়ার যে সব শর্ত রয়েছে তার সবগুলো রয়েছে বাংলাদেশের। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং এনডিবির প্রেসিডেন্ট মার্কোস প্রাদো ট্রয়জোর সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অচিরেই বাংলাদেশ এনডিবির সদস্য পদ অর্জন করতে পারবে। এনডিবির প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তিনি সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিবেচনা করেন। অতি দ্রুতই পরিবারসহ বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সভায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং এনডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। অর্থমন্ত্রী ও এনডিবির প্রেসিডেন্টের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।উল্লেখ্য, এনডিবির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালের ২১ জুলাই। ব্যাংকটির মোট মূলধন ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। আর প্রাথমিক মূলধন ৫ হাজার কোটি ডলার। ২০১৬ সাল হতে এনডিবি অবকাঠামো এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্রিকসভুক্ত দেশে ১৫০ কোটি ডলার ঋণ প্রদান করেছে। তাছাড়া, ব্যাংকটি অবকাঠামো, সেচ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন, সবুজ জ্বালানি এবং নগর উন্নয়ন খাত সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ প্রদান করে থাকে। ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কার্যক্রমে ব্যাংকটি অংশগ্রহণ করছে। ২০২০ সালে ব্যাংকটি একসঙ্গে ৭২টি প্রকল্পে ২ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে। এনডিবির সদস্য পদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য ব্যাংকের পণ্য এবং পরিষেবা ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, সহনীয় সুদ হারে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে অর্থমন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের কৌশল, নীতি, পদ্ধতি ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সদস্য দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার পর সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগটি সীমিত হয়ে যাবে। তাছাড়া পাঁচ বছর মেয়াদি ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫), টেকসই উন্নয়ন অভীস্ট (এসডিজি), ভিশন-২০৪১, ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়ন এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলার লক্ষ্যে এনডিবি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অর্থায়নের উত্স হিসেবে সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।