১৮২ পর্বের তুমুল জনপ্রিয় নাটক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’-এর ইতি টেনেছেন নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। টানা ২১ মাস ধরে চলা গল্প শেষ পর্ব সম্প্রচার হয়েছে মঙ্গলবার। তবে এই ধারাবাহিকের প্রত্যেকটি চরিত্র যে বাংলার দর্শকদের মনে বহুদিন থাকবে তা বলা বাহুল্য। এই নাটকে জনপ্রিয় চরিত্র ছিলো রায়হান-ঝুমুর। এ নাটকের পেছনেও ছিলো মজার মজার গল্প।
মঙ্গলবার জনি হকের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় ‘ইত্তেফাক অনলাইনের ‘টুনাইট শো’ লাইভে হাজির হন ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নাটকের পরিচালক মুহম্মাদ মুস্তফা কামাল, অভিনেতা শামীম হাসান সরকার, এমএনইউ রাজু ও অভিনেত্রী সারিকা সাবাহ। এ সময় তারা এই নাটকের বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করেন।
অনেকটা মজা করে শামীম হাসান সরকার বলেন, ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেটে আমারা কোন মেয়ের গিফট পাইনি। মেয়েরা মেয়েরাই গিফট আদান-প্রদান করতো। আমাকে যদি গিফট করে থাকে তাহলে রাজ ভাই করেছে।
শামীম হাসান সরকারের কথায়, ‘ব্যক্তিগত জীবনে আমি ১৩/১৪ টির মতো সিরিয়াল করেছি। কিন্তু আমার নিজের ফ্যামিলি মেম্বার, আমার চাচা-চাচী, খালা-খালু এই ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ দেখে তারা আমাকে প্রথম ফিডব্যাক দেয় যে তারা এটার দর্শক। এবং আমার আব্বার কোর্সমেটরাও আমাকে ফিডব্যাক দিয়েছে। অর্থাৎ সিনিয়ার সিটিজেনরা এই নাটকের ফিডব্যাক আমাকে দিয়েছে। এবং কুয়ালালামপুরে রাস্তায় গিয়েও আমাকে উত্তর দিতে হয়েছে ‘ঝুমুরকে বিয়ে করবো কবো?’ সুতরাং এই নটকটি ক্যারিয়ারে মেরুদণ্ড হয়ে থাকবে। বিষয়টি অনেক মিস করবো।’

সারিকা বলেন, ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নাটকের শুটিং একমাস পরপর হতো। আমরা অপেক্ষা করতাম যে কবে ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নাটকের শুটিং হবে। এছাড়া আমাদের সেটে প্রচুর গিফট আদান-প্রদান হতো। বিশেষ করে জন্মদিনে। যার জন্মদিন সেও গিফট পেতো আবার যার জন্মদিন না সেই গিফট পেতো। ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’-এ কখনোই মনে হয়নি আমরা শুটিং করছি। সব সময় মনে হয়েছে নিজের ফ্যামিলির সাথেই আছি। নাটকে সেফালি খালা আমার মা। বাস্তবে আমি কিন্তু তাকে মা বলে ডাকি। সুতরাং আমাদের বন্ডিংটা আসলে এরকমই ছিলো। এই নাটকটি শেষ হয়ে গেলেও শুটিং সেটসহ সবাইকে খুব মিস করবো।’

ধারাবাহিক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শর্মিলী আহমেদ, সোহেল খান, মনিরা মিঠু, শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজী সিদ্দিকী, রুনা খান, মুকিত জাকারিয়া, শবনম ফারিয়া, সারিকা সাবাহ, শামীম হাসান সরকার, তামিম মৃধা, রাইসা, সৌমিক প্রমুখ।
ইত্তেফাক/বিএএফ

