মঞ্চে কেটে গেলো তিন যুগ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:২৯

র ফি কু ল  ই স লা ম

 

একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবেই সবাই তাকে চিনেন, জানেন। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদ। তার চোখে এদেশে শক্তিমান অভিনেতা ও অভিনেত্রী হচ্ছেন গোলাম মুস্তাফা, এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম, হুমায়ূন ফরীদি, ফেরদৌসী মজমুদার, সুবর্ণা মুস্তাফা, আজাদ আবুল কালাম, তারিন, জয়া আহসান,  অপি করিম। শতাব্দী বলেন, ‘এখানে যাদের নাম আমি উল্লেখ করেছি প্রত্যেকেই শক্তিমান অভিনয়শিল্পী। এরমধ্যে যাদের সঙ্গে আমার কাজ হয়েছে তাদের সঙ্গে বেশ আরামে, স্বাচ্ছন্দ্যে আমি অভিনয় করেছি। আমি অভিনয় শিখেছিও বটে।’ ছোটবেলা থেকেই শতাব্দী ওয়াদুদ মঞ্চে অভিনয় করছেন। যে কারণে মঞ্চ নাটকের দুনিয়ায় নানান সময়ে বিরতি এলেও মঞ্চে তার পথচলা তিন যুগ ধরে। ১৯৮৫ সালে প্রথম আর্তনাদ থিয়েটারেরর শিশু বিভাগে শহীদুল আলম সাচ্চুর নির্দেশনায় ‘টোকাই’ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে মঞ্চে শতাব্দীর অভিনয়ে যাত্রা শুরু। এই দলের হয়ে অনেক মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে ১৯৯৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি এই দল ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘প্রাচ্যনাট’-এ যোগ দেন তিনি। এই দলের হয়েও অনেক মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। সর্বশেষ এই দলের ‘রাজা এবং অন্যান্য’ নাটকেও অভিনয় করেন তিনি। টিভি নাটকে ছোটবেলায় প্রথম অভিনয় করেন তিনি মনসুরুল আজিজের রচনা ও খ ম হারুনের পরিচালনায় ‘শঙ্কিত পদযাত্রা’ নাটকে। পরিণত বয়সে তিনি প্রথম অভিনয় করেন টিভি নাটকে ১৯৯৯ সালে নূরুল আলম আতিক পরিচালিত প্রথম নাটক ‘সাইকেলের ডানা’। এতে অভিনয় করে তিনি আট হাজার টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন। আর তখন থেকেই পেশাদার অভিনেতা হিসেবে তার যাত্রা শুরু। শতাব্দী ওয়াদুদ প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন শহীদুল জহিরের গল্পে আশিক মোস্তফার পরিচালনায় ‘ফুলকুমার’ সিনেমায়। এতে সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম, নূরূল আলম আতিক, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, আকরাম খান সহ আরো অনেকে। পরবর্তী সময়ে ‘রূপান্তর’, ‘মেহেরজান’, ‘গেরিলা’, ‘আয়না কাহিনী’, ‘জীবনঢুলী’, ‘রুদ্র দা গ্যাংস্টার’, ‘কতো স্বপ্ন  কতো আশা’, ‘চোখের দেখা’, ‘বাপজানের বায়োস্কাপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’য় অভিনয় করেন। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘গেরিলা’য় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। শতাব্দী ওয়াদুদের জন্মদিন আজ। জন্মদিনে তিনি সবার কাছে নিজের এবং স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন। অভিনয় জীবনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে শতাব্দী বলেন, ‘অনেকেই আমাকে শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাতে যেমন আনন্দ অনুভব হয় আবার মনে ভয়ও কাজ করে যে আগামীতে এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারব কি না। তবে এটা সত্য, আমি প্রতিনিয়তই নিজেকে ভাঙ্গার চেষ্টা করি।’ বর্তমানে দীপ্ত টিভির ‘মাশরাফি জুনিয়র’ এবং দেশ টিভির ‘ফ্যামিলি ফ্যান্টাসি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি।