ষাঁড়-গরুদের হাড় চিবাতে দারুণ মজা লাগে,
খেতে বসে তেমনই হাড় পেয়েছিলাম ভাগে।
চিবিয়ে এবং চুষে চুষে যেই না দেব ফেলে,
‘আমাকে দাও! আমাকে দাও!’ বলল আমার ছেলে।
হাড় খাবে কী! দাঁত কি অত শক্ত নাকি ওর,
হাড়ের ওপর তাই তো খানিক দেখাল তার জোর।
বিকেলবেলা হাঁটতে বেরোই—গলির ভেতর হাঁটি,
দুইটা কুকুর একখানি হাড় করছে চাটাচাটি।
এই তো সে হাড়!—এ হাড় আমার দাঁতে দাঁতে চেনা,
পাঁচশো টাকা কেজি দরে নগদ টাকায় কেনা।
কিন্তু ওরা খায় কী চেটে—হাড়ে কিছু আছে?
আছে বোধহয়—নইলে কুকুর কেমন করে বাঁচে?
কামড়ে সে হাড় কুকুরদুটো করল করুণ দশা,
হাড়ের যা হোক, তারের ওপর কাক ছিল এক বসা—
কুকুর গেলে হাড়ের পরে পড়ল এসে উড়ে,
ততক্ষণে গলি ধরে হেঁটে এলাম ঘুরে।
খাওয়াদাওয়া চলছে তবু—পিঁপড়ে আছে লেগে,
বসবে মাছি—উড়ছে তারা—পিঁপড়ে গেলে ভেগে।
এরপরে কার খাওয়ার পালা, মাছি যদি ছাড়ে?
এসো, এসো! পেট ভরাবে আমার কেনা হাড়ে।
পিঁপড়ে খেল, মাছি খেল—কুকুর এবং কাকও,
আমার দানে ধরাধামে তোমরা বেঁচে থাকো।
আমি মানুষ—মানুষ হয়ে থাকব মাথা তুলে,
বুকটা আমার উঠল বোধহয় ইঞ্চিখানিক ফুলে।
পাচ্ছি না তাই আরাম আমি রাতের বেলা শুয়ে,
বুক তো উঁচু কিন্তু আমার মাথা গেছে নুয়ে—
একটি মোটে হাড় দিয়েছি খাটো এবং সরু,
জীবন দিয়ে যে হাড় আগেই দিয়ে গেছে গরু।
