‘চাথা চানা পই’ উত্সবে মেতেছে খুমি সম্প্রদায়

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪১

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে পাহাড়ে জুম চাষের বিভিন্ন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে ‘চাথা চানা পই’ উত্সবে মেতেছে খুমি জনগোষ্ঠী। রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের সাংকিং পাড়ায় বুধবার নবান্নের এ উত্সবের আয়োজন করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট (কেএসআই)। পাহাড়ি গ্রামগুলোতে নবান্ন উত্সব চলবে আরো সপ্তাহখানেক। উত্সবের শুরুতে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। উত্সবে বিভিন্ন রকমের জুম ধান, জুমে উত্পাদিত ফলমূল, সরঞ্জামাদি ও বিন্নি চালের পিঠা প্রদর্শন করা হয়। জুম চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা দেন পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠরা।

এসময় পাহাড়ি খুমি জনগোষ্ঠী নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী এবং শিশু-কিশোর নিজস্ব গোষ্ঠীর পোশাক, গহনা পরে নাচে-গানে মাতিয়ে তোলেন। গতকাল বুধবার সমাপনী দিনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লেখক সিংঅং খুমি। অন্যদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মংনুচিং মারমা, শিক্ষক ও গবেষক শামুসদ্দিন শিশির, উন্নয়ন সংস্থা কথোয়াইয়ের নির্বাহী পরিচালক গাব্রিয়েল ত্রিপুরা, সাংকিং পাড়ার কারবারি নাংঅং খুমিসহ বোমাং সার্কেলের মৌজা হেডম্যান, কার্বারি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সিংঅং খুমি বলেন, ‘জুম চাষের ধান কাটা শেষে উত্পাদিত নতুন ফলমূল ও বিন্নি চাল দিয়ে নবান্ন উত্সব পালন করে খুমিরা। উত্সবে পাড়ার ছেলে-মেয়ে ও বয়োবৃদ্ধ সবাই এক সঙ্গে আনন্দ উত্সবে অংশ নেয়। উত্পাদিত ফলমূল পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণ করে।

এ উত্সবকে খুমি ভাষায় ‘চাথা চানা পই’ নামে পালন করা হয়। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক মংনুচিং মারমা বলেন, পাহাড়ে জুমের ফসল তোলার পর কয়েকটি জনগোষ্ঠী জুম চাষের জীবন নিয়ে উত্সব পালন করে। বিভিন্ন গোষ্ঠী এই উত্সবকে বিভিন্ন নামে পালন করে থাকে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি নবান্ন উত্সব নামে পরিচিতি। জুমচাষের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন পদ্ধতি ও তাদের কৃষিভিত্তিক জীবন এবং সংস্কৃতি-ঐতিহ্য তুলে ধরতে নবান্ন উত্সবের আয়োজন করা হয়।