দিনের প্রথম বলে সাদমানের বাউন্ডারি দেখে মনে হয়েছিল প্রথম দিনেই ৩০০’র ঘর পেরিয়ে যাবে বাংলাদেশের স্কোর। কিন্তু দিন শেষে দেখা গেল স্কোর থমকে আছে আড়াইশ’র নিচে। চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকদের স্কোর ৫ উইকেটে ২৪২। সাকিব আল হাসান ৩৯ ও লিটন দাস ৩৪ রানে অপরাজিত আছেন।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট ‘ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ’ নামেই পরিচিত। ব্যতিক্রম ছিল না এবারও। উইকেট স্লো হলেও ব্যাটসম্যানদের পক্ষেই ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররাও বড় ধরনের হুমকি হয়ে ধরা দেননি। অথচ এমন বোলিংয়ের বিপক্ষেও স্বস্তিতে ছিল না মুমিনুল হকের দল। লোকাল হিরো তামিম ৯ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর পুরো দিনে একটি মাত্র হাফ সেঞ্চুরি এসেছে তরুণ ওপেনার সাদমান ইসলামের ব্যাট থেকে। এছাড়া মুশফিক করেছেন ৩৮। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাম হাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান তিনটি এবং কেমার রোচ একটি উইকেট নেন।
গতকাল বুধবার সকালে টস জয়ী বাংলাদেশের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন কেমার রোচ। পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে ইনসুইঙ্গারে তামিমকে বোল্ড করেন এ ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলার। বল তার প্যাড ছুঁয়ে উইকেট ভেঙে দেয়। তবে আউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের নতুন মাইলফলক গড়েন তামিম। অবশ্য তামিমের এই রেকর্ডের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র চার ঘন্টা। পরে ব্যাট করতে নেমে আবার সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহকের রেকর্ড নিজের আয়ত্বে নেন মুশফিক।
দলীয় ৬৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩ বাউন্ডারিতে ব্যক্তিগত ২৫ রানের মাথায় রান আউট হন শান্ত। তামিম ও শান্তকে হারিয়ে ২ উইকেটে ৬৯ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর ভালোই খেলছিলেন সাদমান ও মমুিনুল। ৪৮.১ ওভারে ওয়ারিকানের অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বলে চার মেরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট অর্ধশতকের দেখা পান সাদমান। তবে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি অধিনায়ক মুমিনুল। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৯টি সেঞ্চুরির মধ্যে ৬টিই চট্টগ্রামের মাটিতে করেছেন তিনি। সাগরিকায় একটি ফিফটিও আছে তার।
কিন্তু গতকাল তিনি করেন মাত্র ২৬। সাদমানকে নিয়ে দলের স্কোরে ৫৩ রান যোগ করার পর দলীয় ১১৯ রানে মুমিনুল আউট হন। ১৫ রানের ব্যবধানে ফিরেন সাদমান। ১৫৪ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৯ রান করে ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন সাদমান।
প্রথম দুটি সেশনে দুটি করে চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। উইকেটে এসে সাকিবও সুইপ করতে গিয়ে প্রায় আউট হয়ে যাচ্ছিলেন। ওয়ারিকানের বলে আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় উইন্ডিজরা। তবে সেযাত্রা বেঁচে যান সাকিব। দিনের শেষ সেশনে মুশফিকের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কর্নওয়ালের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৩৮ রান করেন মুশফিক। তার বিদায়ের পর ৪৯ রানের জুটি গড়ে দিনের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন সাকিব-লিটন।
