রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামাদিসহ তিন জনকে আটক করেছে র্যাব। বুধবার রাতে নিউমার্কেট, তুরাগ ও শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন-ভিওআইপি ব্যবসা চক্রের হোতা মো. কাজী এম এম মাহামুদ ওরফে ছোটন, রাকিব হাসান ও বাবর উদ্দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধন করা সম্ভব। অথচ এ চক্রটি অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় টেলিটকের ৩ হাজার ৪০০ সিম ব্যবহার করে আসছিল। চক্রটি অবৈধ টেলিযোগাযোগ স্থাপনার মাধ্যমে প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ৬ লাখ মিনিট আন্তর্জাতিক কল অবৈধভাবে বাংলাদেশে টার্মিনেট করছে। ফলে বর্তমান আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
অভিযান সম্পর্কে র্যাব-১০ সিও বলেন, এলিফ্যান্ট রোডের তালহা এন্টারপ্রাইজ নামে এক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামসহ রাকিব হাসান ও বাবর উদ্দিনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভিওআইপি কন্ট্রোল রুমের সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনা চক্রের প্রধান কাজী এম এম মাহামুদ ছোটনকে আটক এবং ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যবহূত ১৯টি সিম বক্স ডিভাইস, ৪১৬টি জিএসএম অ্যান্টেনা, ৩ হাজার৪০০ পিস টেলিটক সিম, সাতটি মিনি কম্পিউটার, তিনটি ওয়্যারলেস রাউটার, পাঁচটি বাংলা লায়ন মডেম ও রাউটার, তিনটি ল্যাপটপ, একটি ল্যাপটপ কুলার, ১০টি বিভিন্ন চার্জার, ছয়টি ইউ এস বি মডেম, ১২টি পাওয়ার ক্যাবল, ২৪টি কনসেল ক্যাবল, তিনটি থ্রি প্ল্যাগ, চারটি মালটিপ্ল্যাগ, একটি মাউস, চারটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১০ প্রধান বলেন, তাদের এই ভিওআইপি কল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হবে।
