ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ভালো মানের বিটুমিনের সংকট

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২৩:০৪

দেশ জুড়ে চলমান সড়ক অবকাঠামো নির্মাণকাজের জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উন্নত গ্রেডের বিটুমিন নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়েছে। বিশেষ করে ইস্টার্ন রিফাইনারি উত্পাদিত সড়ক নির্মাণে ব্যবহারযোগ্য ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদা অনুসারে সরবরাহ করতে না পারায় ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই গ্রেডের বিটুমিনের বেশির ভাগ পদ্মা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমেই বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানি নামের বিপিসির অপর দুই বিপণন প্রতিষ্ঠান ইআরএল উত্পাদিত ৮০ থেকে ১০০ সাধারণ গ্রেডের বিটুমিনও বিক্রি করে থাকে।

বাংলাদেশ সড়ক ঠিকাদার সমিতির প্রধান সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল ইত্তেফাককে বলেন, মনে হচ্ছে ইআরএল ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন উত্পাদন রহস্যজনক কারণে বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে পদ্মা অয়েল থেকে এই গ্রেডের বিটুমিন পাওয়া না যাওয়ায় চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সরকারের সড়ক অবকাঠামো নির্মাণকাজের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ ইআরএলের ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিনের মান খুব উন্নত বিধায় সড়কের স্থায়িত্ব বাড়ে, দামও কম। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাজারে বেশি দামে মিলছে কতিপয় বেসরকারি কোম্পানির আমদানি করা ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন। কিন্তু এর গুণমান ইআরএলের সমান নয়। যদি বেসরকারি কতিপয় কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ইআরএলের ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়, তবে তা হবে দুঃখজনক।

পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিজিএম (বিক্রয়) মো. ফখরুদ্দিন বলেন, গত দুই-তিন মাস ধরে আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন পাচ্ছি না, তাই বিক্রিও করতে পারছি না। সপ্তাহখানেক আগে রিফাইনারি থেকে এই গ্রেডের কিছু পরিমাণ খোলা (বাল্ক) বিটুমিন পাওয়া যায়। কিন্তু এই গ্রেডের বিটুমিনের চাহিদা অনেক বেশি। সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগ আমাদের কাছ থেকে এই গ্রেডের বিটুমিন বেশি কিনে থাকে।

ইস্টার্ন রিফাইনারির ডিজিএম (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহের মধ্যে দুই সপ্তাহ আমরা ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন উত্পাদন করেছি। গত সপ্তাহে উত্পাদন করেছি আমরা ৮০ থেকে ১০০ গ্রেডের বিটুমিন। এক গ্রেডের বিটুমিন উত্পাদন বন্ধ করে অন্য গ্রেডের বিটুমিন উত্পাদন শুরু করতে প্ল্যান্টে ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, দুটি গ্রেড মিলিয়ে সারা দেশে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে বিটুমিনের সর্বমোট চাহিদা বছরে ৩ লাখ মেট্রিকটন। বর্তমানে দুই গ্রেড মিলিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে বিটুমিন উত্পাদন করতে পারে ৭০ হাজার টন। দেশে বিটুমিনের চাহিদা বাড়লে আমরা তা পূরণ করতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশেই সড়ক অবকাঠামোর কাজ পুরোদমে চলছে। ফলে বিটুমিনের চাহিদাও বেড়ে গেছে। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সড়ক অবকাঠামো নির্মাণকাজে আমরা ৮০ থেকে ১০০ গ্রেডের বিটুমিন দিয়ে থাকি। পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি কাজে দিয়ে থাকি ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন।’ তিনি বলেন, দেশে বিটুমিন উত্পাদনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা গ্রুপ স্থাপিত একটি বিটুমিন প্ল্যান্ট দুই গ্রেডেরই বিটুমিন বাজারজাত করতে সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে। এ মাসেই তারা অনুমোদন পেতে পারে বলে শুনেছি। তাদের প্ল্যান্ট ৬০-৭০ ও ৮০-১০০ গ্রেডের বিটুমিন বছরে ৫ লাখ টন উত্পাদন করতে পারবে। অন্যদিকে বিপিসি নিয়ন্ত্রিত ইস্টার্ন রিফাইনারির নতুন দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্মাণ হয়ে গেলে নতুন ও পুরোনো দুটি ইউনিট মিলে বছরে সর্বমোট ৫ লাখ টন বিটুমিন উত্পাদন হবে এখানে। তখন বছরে দেশ ৩ লাখ টন চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশী দেশসহ বিভিন্ন দেশে উদ্বৃত্ত বিটুমিন রপ্তানির কথাও ভাবতে পারবে।