নির্বাসিত ইরানিদের দ্বারা ফ্রান্সে আয়োজিত এক র্যালীতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করার দায়ে বেলজিয়ামের আন্টওয়ার্প শহরের একটি আদালত ইরানি কূটনীতিক আসাদোল্লাহ আসাদিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আসাদোল্লাহ ভিয়েনায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৯ এর বিপ্লবের পরে এই প্রথম কোনো ইরানি কর্মকর্তা ইউরোপে এ ধরণের অভিযোগে কারাদণ্ড ভোগ করতে যাচ্ছেন। আদালতে আরও তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। জার্মান, ফরাসি ও বেলজিয়ান পুলিশের যৌথ অপারেশনে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
২০১৮ সালে প্যারিসের বাইরে অনুষ্ঠিত এই র্যালিতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। র্যালিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানিও ছিলেন। ফ্রান্স এই হামলার পরিকল্পনার জন্য ইরানের ইন্টেলিজেন্স মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছে এবং দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার সম্পত্তি জব্দ করেছে। এদিকে ইরান এই পরিকল্পনাকে বানোয়াট বলে দাবি করেছে। এই মামলার আইনজীবী জর্জ-হেনরি বুদিয়ের বলেন, ‘এই রায় দুটি জিনিস দেখিয়েছে : একজন কূটনীতিকও অপরাধের শাস্তি থেকে পার পেতে পারেন না এবং হামলা সংঘটিত হলে কি বিশাল হত্যাযজ্ঞ হতো ।’
জানা গেছে, ইউরোপে নির্বাসিত ইরান সরকারের বিরোধী পক্ষ ন্যাশনাল কাউন্সিল রেসিসট্যান্স অব ইরান (এনসিআরআই) ২০১৮ এর জুনে এই র্যালির আয়োজন করে। এতে গুরুতপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিরা ছাড়াও ইউরোপে বসবাসরত হাজার হাজার ইরানি অংশগ্রহণ করেছিল। এই র্যালিতে হামলাই ছিল পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য। এনসিআরইকে মুজাহিদিন-ই-খালক এর রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠন হিসেবে ধরা হয়। মুজাহিদিন-ই-খালক ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে উত্খাতে সমর্থন দেয়।
