আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ’৭০ এর নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ’৭০- এ মানুষ ‘নৌকা’ মার্কায় ভোট দিয়েছিল দেশ স্বাধীনের জন্য। বঙ্গবন্ধু তখন সারাদেশ ঘুরে নৌকাকে বিজয়ী করেছিলেন। ’৭০ এ গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, আর এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এবার মানুষ নৌকাকে ভোট দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এবার যে নির্বাচন হয়েছে, জনগণ এমন একটি নির্বাচনেরই অপেক্ষায় ছিল, যে নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি সংসদ গঠিত হবে-যেখানে স্বাধীনতাবিরোধী ও কোনো খুনি থাকবে না। এবারের সংসদে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনি নেই। জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মনসুর আলীর পুত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর। তার অনুপস্থিতিতে তোফায়েল আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় জাতীয় চার নেতার সঙ্গে পরামর্শ করতেন। শহীদ মনসুর আলী বঙ্গবন্ধুর কতটা বিশ্বস্ত ছিলেন তা আমি নিজে কাছ থেকে দেখেছি। বঙ্গবন্ধু তার ছেড়ে দেওয়া মন্ত্রণালয়গুলো মনসুর আলীকেই দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তারই দিয়ে যাওয়া নির্দেশনা মোতাবেক চার নেতা মুক্তিমুদ্ধ পরিচালনা করেন।
১৪ দল আছে থাকবে, এনিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই : মোহাম্মদ নাসিম
সভাপতির বক্তব্যে ১৪ দল সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমাদের সামনে এখনও অনেক কাজ বাকি। ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই জোট গড়ে উঠেছে। ১৪ দল নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ও সংশয় নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল আছে এবং থাকবে। এখন ১৪ দলের কাজ তিনটি। আগামী দিনগুলোতে শেখ হাসিনার সরকারকে চোখের মণির মতো রক্ষা করা, সরকার কোনো ভুলত্রুটি করলে সেটি তুলে ধরা এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যদি কোনো চক্রান্ত হয় তাহলে মাঠে নেমে তা প্রতিহত করা।
নাসিম বলেন, খুনি মোশতাকের মতো বেইমানের সন্তান নই আমি। আমি একজন আদর্শবান নেতা শহীদ এম মনসুর আলীর সন্তান, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। চার নেতার জীবন ছিল আদর্শিক, নেতৃত্বের প্রতি তাদের আনুগত্য ছিল প্রশ্নাতীত। মনসুর আলীর সন্তান হিসেবে আমি ও আমার পরিবারও কখনও শেখ হাসিনার সঙ্গে বেইমানি করতে পারবো না। কারণ এই দুটি পরিবারের সম্পর্ক রক্তের।
১৪ দলের প্রাসঙ্গিকতা এখনও বিদ্যমান : মেনন
আলোচনা সভায় ১৪ দল নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের নিরঙ্কুশ বিজয় এসেছে, এতে সন্দেহ নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে, জনগণ সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এই ম্যান্ডেট দিয়েছে। ১৪ দল আমরা এই সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে মাঠে লড়াই করেছি। যেসব ইস্যুতে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতা এখনও বিদ্যমান।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, শহীদ মনসুর আলীর নাতি ও মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র তানভির শাকিল জয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা প্রমুখ।
