সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রশাসনিক ভবন ও উপাচার্যের বাংলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষকদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মতিউর রহমান ও সদস্য সচিব খায়রুল কবীর সুমন কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী ও সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ তাঁর একাডেমিক-প্রশাসনিক-আর্থিক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং অবৈধ পদোন্নতি-পদায়ন-নিয়োগ আড়াল করতে এবং চলমান আন্দোলন দমাতে এমন ফরমান জারি করেছে। অবিলম্বে সংবিধানবিরোধী ওই ‘নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেওয়া না হলে জোরালো প্রতিবাদ জানানোর কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তাফা কামাল ও উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কেউই ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবন ও ভিসির বাংলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর আগে সদ্য ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৭৫তম সভায় (বিশেষ) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওই অফিস আদেশে প্রশাসন ভবন, ভিসির বাংলো, একাডেমিক ভবন এবং শ্রেণীকক্ষের সামনে মিছিল-মিটিং, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ প্রদর্শন, স্লোগান, বক্তব্য প্রদান ও মৌন মিছিলসহ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তালা লাগিয়ে প্রতিবাদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই নোটিশের নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসসিএস
