পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলে অনিয়ম-দুর্নীতি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০১

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিকে সঙ্গী করেই চলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের কার্যক্রম। নিয়োগের নামে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিন লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত্, স্কুল গভর্নিং বডির সভায় বহিরাগত প্রতিনিধি, স্কুল পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকা শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালককে অবজ্ঞা করে সভা করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ইউজিসি থেকে নিবন্ধন করার কথা বলে নন-এমপিও শিক্ষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ হাজার, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ১১ হাজার এবং সব কর্মচারীর কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা নিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল আলম। এদিকে চলতি মাসের ২৪ তারিখ প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেনের বিদায়ের পর এই পদে আসতে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল আলম লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলের গভর্নিং বডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার কামালউদ্দিন আহমেদ সভাপতি হিসেবে আছেন। কিন্তু স্কুলের গভর্নিং বডির সভায় ট্রেজারার উপস্থিত থাকেন না। তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক কাজী মো. নাসির উদ্দিনকে সভায় পাঠান। এদিকে শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিটিউটের পরিচালক মনিরা জাহান স্কুল কমিটির সভায় আমন্ত্রণ পান না। মনিরা জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অবশ্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কেন বহিরাগত পাঠান, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, তিনি কেবলই রুটিন তৈরি করেন, টাকাপয়সার ব্যাপারে তার সম্পৃক্ততা নেই ।

এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটা যেহেতু আর্থিক ব্যাপার, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। শিগিগর একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গভর্নিং বডির সভায় বহিরাগত সদস্যকে আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সাহিত্যের লোক, হিসাব কম বুঝি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক কাজী মো. নাসির উদ্দিনকে সভায় অতিথি হিসেবে রাখা হয়।’