রাশিয়া ও চীনকে কড়া সতর্কবার্তা বাইডেনের

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২৯

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে বড় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দেওয়া প্রথম ভাষণে রাশিয়া ও চীনকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। রাশিয়া ও চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে মিত্রদের পাশে দাঁড়ানোর এবং ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে সমর্থন বন্ধের কথা জানিয়েছেন। মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের যে পররাষ্ট্রনীতি ছিল তা থেকে বেরিয়ে আসার আভাস দিয়েছেন তিনি। কারণ গত চার বছরে বাণিজ্য শুল্ক বাড়ানোর মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তখন মার্কিন মিত্রদের মধ্যে বিভেদের তৈরি হয়েছে আর কর্তৃত্ববাদী দেশগুলোর বিরুদ্ধে খুব কমই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর :সিএনএন ও বিবিসির।

বৃহস্পতিবার প্রথম বারের মতো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পরিদর্শনে যান জো বাইডেন। সেখানে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন যুগে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মঞ্চে আবারও ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে রাশিয়ার প্রচেষ্টা, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অগ্রযাত্রা এবং কর্তৃত্ববাদ বিস্তারের এই মুহূর্ত অবশ্যই আমেরিকার নেতৃত্বকে মোকাবিলা করতে হবে। করোনা মহামারি, জলবায়ু সংকট থেকে পরমাণু অস্ত্রের বিস্তারের মতো নতুন এই সময়ের সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, কূটনীতিতে আমাদের বিনিয়োগের কারণ হলো—আমরা শান্তি, নিরাপত্তা আর সমৃদ্ধির মধ্যে বাস করতে চাই। এখানে আমাদের বড় স্বার্থ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমার পূর্বসূরির চেয়ে খুবই ভিন্ন ঢঙে কথা বলেছি। আমি তাকে স্পষ্ট বলে দিয়েছি, রাশিয়ার আগ্রাসি পদেক্ষপ, আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, আমাদের প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা এবং নিজ দেশের নাগরিকের ওপর বিষ প্রয়োগের দিন শেষ হয়ে গেছে। যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব বিষয়ে রাশিয়াকে দোষারোপ করতে নারাজ ছিলেন।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথমদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা, হংকংয়ে দমনপীড়ন, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসি ভূমিকায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। চীন যখন বিশ্ব জুড়ে তাদের সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে তখনই দায়িত্ব নিয়েছেন বাইডেন। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভবত চীনই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জন্য সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্চ।

ভাষণে বাইডেন বলেন, চীন আমাদের সবচেয়ে ভয়ানক প্রতিদ্বন্দ্বী। আমরা চীনের অন্যায় অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াব। তাদের আগ্রাসনের জবাব দেব। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে চাপ প্রয়োগ করব। তবে আমেরিকার স্বার্থে আমরা চীনের সঙ্গে কাজ করতেও প্রস্তুত রয়েছি।

তিনি বলেন, মিত্ররাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমরা আবারও মিত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াব। ইতিমধ্যে তিনি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ফেরার জন্য কাজ শুরু করছেন। একইসঙ্গে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের আবারও যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। শরণার্থী ও আশ্রয় প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন। বাইডেন বলেন, বিশ্বে আবারও নেতৃত্ব দিতে আমাদের প্রশাসন প্রস্তুত।

তিনি ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইয়েমেনে সরকার এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে ২০১৪ সালে সংঘাতের শুরু হয়। এরপর সৌদি আরব এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তখন থেকে মার্কিন প্রশাসন সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু বাইডেন জানিয়েছেন, তিনি সমর্থন বন্ধ করবেন। ইতিমধ্যে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অস্ত্র বিক্রি আটকে দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাইডেন। তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হবে না। প্রসঙ্গত, ছয় বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চরম দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে ইয়েমেনের লাখ লাখ মানুষ।

এদিকে রাশিয়া সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বক্তব্যকে ‘আক্রমণাত্মক ও গঠনমূলক নয়’ বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,  যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলটিমেটাম সহ্য করবে না রাশিয়া। তবে ক্রেমলিন আশা করে যে, দুই দেশের স্বার্থ একমুখী হলে এখনো উভয়ের মধ্যে কার্যকর আলোচনা হতে পারে।

এদিকে চীন বলেছে, দুই দেশের মতবিরোধের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থ অনেক বেশি। আর প্রতিরক্ষায় সহায়তার ঘোষণা দেওয়ায় সৌদি আরব বাইডেনের বক্তব্যের প্রশংসা করেছে।