সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
গতকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ফজলে খোদা মোঃ নাজির চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সুমি হত্যা মামলার দায়ে স্বামী সহ ৪ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন স্বামী সুবির কুমার রায়, ডাঃ সুশীল কুমার রায়, সুনীল কুমার রায়, মনোরঞ্জন কুমার রায়।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালের সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কস্থ মৃত সতীশ চন্দ্র রায়ের চতুর্থ পুত্র সুবির কুমার রায়ের সঙ্গে টাঙ্গাইল শহরের শাহাপাড়ার গোবিনাধ বিশ্বাসের কন্যা সুমি রানীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দাবিকৃত ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক এর মধ্যে আড়াই লক্ষ টাকা পরিশোধ করে। বাকি টাকার জন্য সুবির কুমার রায় ও তার পরিবারের সদস্যগণ সুমি রানী রায়কে নির্যাতন করত। পরবর্তিতে ২৯ জুন ২০০০ সালে যৌতুকের বাকি টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা গোপিনাথ বিশ্বাস সিরাজগঞ্জে এসে তার মেয়ের জামতার ভাই ডাঃ সুশীল কুমার রায়ের নিকট দিয়ে যান। যৌতুকের বাকি টাকার জন্য তার মেয়ের জামতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ সুমি রানীকে নির্যাতন করে আসতো। গত ১২-০১-২০০১ তারিখ সন্ধ্যায় সুবির কুমার রায় ও তার পরিবারের সদস্যগণ যৌতুকের বাকি টাকার জন্য সুমি রানী রায়কে চাপ সৃষ্টি করলে সুমি তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করলে আসামি সুবির কুমার রায়, আসামি ডাঃ সুশীল কুমার রায়, সুনীল কুমার রায়, মনোরঞ্জন কুমার রায়ের সহায়তায় সুমিকে গলা টিপে ও মারপিট করে হত্যা করে। এ ব্যাপারে মনরঞ্জন রায় সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সুমি রানীর গলায় আত্মহত্যা করেছে বলে মিথ্যা জিডি করে। ময়না তদন্তে সুমিকে হত্যা করা হয়েছে বলে রিপোর্ট আসায় উক্ত থানার এস আই মনিরুল ইসলাম ১৫ জানুয়ারি ২০০১ তারিখে হত্যা মামলা দায়ের করে। সুমির পিতা গোপিনাথ বিশ্বাস, সুবির ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর সুবির, সুশীল, ডাঃ সুনিল, মনোরঞ্জন আত্মগোপন করে। বাদি পক্ষে ১২ জনের সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক এ রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচলনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিশেষ পিপি শেখ আব্দুল হামিদ লাভলু, বিশেষ এপিপি আনোয়ার পারভেজ লিমন এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স এ্যাডঃ এস, এম জাহাঙ্গীর আলম।
