বেরোবির প্রশাসনিক ভবন, ভিসির বাংলোতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩২

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রশাসনিক ভবন ও উপাচার্যের বাংলোতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে আলটিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া অভিযোগ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ক্যাম্পাসে না থেকে প্রতিষ্ঠানের যতরকম সমস্যার সৃষ্টি করেছেন সেগুলো চেপে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবারের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে শিক্ষার্থীরা এর যথাযথ জবাব দিবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের  নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষকদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’। সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থি। অবিলম্বে সংবিধানবিরোধী ঐ ‘নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেওয়া না হলে জোরালো প্রতিবাদ জানানোর কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোন ঘটনা ঘটে নি যে, সিন্ডিকেটের বিশেষ সভা করে এরূপ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন অসংখ্য নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এ সকল নিয়ম বহির্ভূত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্টগণ প্রতিবাদ করাটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তাফা কামাল ও উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রশাসন ভবন, ভিসির বাংলো, অ্যাকাডেমিক ভবন এবং শ্রেণিকক্ষের সামনে মিছিল-মিটিং, অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ প্রদর্শন, স্লোগান, বক্তব্য প্রদান ও মৌন মিছিলসহ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তালা লাগিয়ে প্রতিবাদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি এই নোটিশের নির্দেশনা না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।