চট্টগ্রাম টেস্ট

সাগরিকায় দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৫

চট্টগ্রাম টেস্টে দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মমিনুল বাহিনীর ৪৩০ রানের জবাব দিতে গিয়ে গতকাল চা বিরতির খানিক পরেই ২৫৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। ১৭৫ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ তিন উইকেটে ৪৭। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তামিম ও শান্তকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গেলেও তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে ২১৮ রানে। মমিনুল ৩১ ও মুশফিক ১০ রানে ক্রিজে রয়েছেন।  

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা যদি হয় ব্যাটসম্যানদের, তাহলে তৃতীয় দিনের পুরো কৃতিত্ব স্পিনারদের। গতকাল ১১টি উইকেটের পতন হয়েছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে, যার ১০টি শিকার করেছেন দুই দলের স্পিনাররা। আট ক্যারিবিয়ানকে ফেরত পাঠিয়েছেন বাংলাদেশি স্পিনাররা। এর মধ্যে মিরাজ একাই নিয়েছেন চার উইকেট। এছাড়া তাইজুল ও নাইম       হাসান নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ৭৬ এবং জার্মেইন ব্ল্যাকউড ৬৮ রান করে দলের স্কোরকে সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যান। এর পর শেষ বিকালে আউট হওয়া তিন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের দুই জনই ছিলেন ক্যারিবিয়ান স্পিনার কর্নওয়ালের শিকার। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে কর্নওয়ালের স্পিনে ঘায়েল হয়ে শূন্য রানে ফিরে যান চট্টগ্রামের ছেলে তামিম। এক বল পরে কর্নওয়ালের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১ রানে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মমিনুল ও সাদমানের তৃতীয় জুটি ৩২ রান করে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ শিবিরে। ১৫তম ওভারে গ্যাব্রিয়েলের বলে অকারণে খোঁচা মারতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হন সাদমান।  

এর আগে হাতে আট উইকেট নিয়ে ৩৫৫ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের প্রথম বলেই ক্যারিবিয়ান শিবিরে আঘাত করেন তাইজুল। তাইজুলের ডেলিভারি খোঁচা মারতে গিয়ে স্লিপে দাঁড়ানো শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বোনার। তাইজুলের বলে ১ রান নিয়ে ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি পূর্ণ করেন ব্র্যাথওয়েট। ব্যাট হাতে ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ব্র্যাথওয়েটকে ফেরান নাইম হাসান। নাইমের ইনসুইংগার খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হওয়ার আগ পর্যন্ত এক ডজন বাউন্ডারিতে ১১১ বলে ৭৬ রান করেন তিনি। মিরাজের বলে কাইলি মেয়ার্স এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হওয়ার পর দা সিলভা ও ব্ল্যাকউড লাঞ্চ পর্যন্ত ৩৫ রান যোগ করেন দলের স্কোর বোর্ডে।

লাঞ্চের প্রায় আধঘণ্টা আগে থেকেই উইকেট অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। একটি বল নিচু হয়ে এলে পরেরটি আসে উঁচু হয়ে। এই অবস্থার মধ্যেই সিলভা ও ব্ল্যাকউড জুটির ব্যাট থেকে আসে আরো ৬৪ রান। চা বিরতির দুই ওভার আগে নাইম হাসানের বলে সিলভা কট বিহাইন্ড হলে ব্ল্যাকউডের সঙ্গে তার শতরানের জুটি গড়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন আপেও ধস নামে একই সঙ্গে। মাত্র ৬ রানে বাকি চারটি উইকেট হারায় তারা। ১৮ মিনিটের ব্যবধানে একে একে ফিরে যান ব্ল্যাকউড, কেমার রোচ, রাকিম কর্নওয়াল এবং জোমেল ওয়ারিকান। তাদের মধ্যে ব্ল্যাকউডই উল্লেখ করার মতো ৬৭ রান করেন। 

কুঁচকির ইনজুরির কারণে তৃতীয় দিন মাঠের বাইরে ছিলেন সাকিব। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন বিকালে নিজের তৃতীয় ওভারে পা দিয়ে বল আটকাতে গিয়ে আঘাত পান সাকিব। ব্যথা নিয়েই ছয় ওভার বোলিং করেন তিনি। এর পর অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠের বাইরে চলে যান। গতকাল সারা দিন ড্রেসিং রুমে কাটালেও মাঠে নামেননি।