নগরীতে যানবাহনের বেপরোয়া গতি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর দায়ে মালিকদের জরিমানা করা হলেও এই প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে কমছে না দুর্ঘটনাও। নগরীতে গত বৃহস্পতিবার মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে দুটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন জন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আট জন। এই দুটি দুর্ঘটনাই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর কারণে ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল সড়কে। বেলা আড়াইটার দিকে তীব্র গতির একটি প্রাইভেট কার এখানে একটি যাত্রীবাহী রিকশা ও পথচারিদের ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। রাস্তায় ছিটকে পড়া রিকশা আরোহী, পথচারিসহ মোট চার জন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মাত্র ৯ ঘণ্টা পরই নগরীর বাকলিয়া রাহাত্তারপুল এলাকায় ব্লুমিং পার্ক কমিউনিটি সেন্টারের সামনে বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়কের ওপর দ্রুতগতির বালুবোঝাই ডাম্প ট্রাক একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্র সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিন যাত্রী। গুরুতর আহত হন অপর চার যাত্রী। মধ্যরাতে হতাহতদের সবাইকে নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। পুলিশ জানায়, বেপরোয়া গতির ডাম্প ট্রাক চালক দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়।
নগরীর হাইওয়ে এবং ফ্লাইওভারগুলোতে প্রতিদিন বিপজ্জনক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর-শোলকবহর থেকে ইস্পাহানী মোড় পর্যন্ত নগরীর দীর্ঘতম আকতারুজ্জামান ফ্লাইওভারটিতে রাতদিন চলছে বিভিন্ন যানবাহনের গতির প্রতিযোগিতা। স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ, এম এ মান্নান ফ্লাইওভার এবং আকতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ত্রুটিপূর্ণ ইউটার্ন করা হয়েছে। গত ছয় মাসে এখানে যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে অন্তত ১০টি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে, হতাহত হয়েছেন অনেকে। ইউটার্নটি ঐ স্থান থেকে সরিয়ে মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন এবং শোলকবহর-মোহাম্মদপুরের মধ্যে একটি ওভারপাস নির্মাণের আহ্বান জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাড়া মেলেনি।
এ ব্যাপারে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সিনিয়র সহসভাপতি এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ ইত্তেফাককে বলেন, গাড়ির চালক, মালিক, যানবাহনের আরোহী, পথচারি, মহানগরী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বিআরটিএসহ সরকারের সকল মহলকে নগরীর এই ট্রাফিক নৈরাজ্য দূর করার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না।
চট্টগ্রাম মহানগরী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) উক্য চিং বলেন, আমরা বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুরোদমে কাজ করছি। এ ধরনের যানবাহনকে মামলা ও জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। নগরীতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাসহ এক একটি স্থানের ট্রাফিক ঘনত্ব বুঝে যানবাহনের স্পিড লিমিট নির্ধারিত হয়। রাস্তায় এই সংক্রান্ত সতর্ক সাইনবোর্ড লাগানোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য নগরসেবা কর্তৃপক্ষের। দেখা গেছে নিয়মিত দেখাশোনা ও পরিচর্যার অভাবে বিভিন্ন স্থানের স্পিড লিমিট লেখা সাইনবোর্ডগুলো উধাও কিংবা নষ্ট হয়ে গেছে। আর যানবাহনের বেপরোয়া চালকরা এর সুযোগ নিচ্ছে। তারপরও মহানগরী পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নগরীতে ট্রাফিক শৃংখলা বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। তবে এজন্য জনগণের সচেতনতা এবং সহযোগিতাও একান্ত দরকার বলে তিনি অভিমত দেন।
