সংশোধিত পাঠ্যসূচির আলোকে

এসএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি:২০২১

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:২০

এইচ. এম. ফেরদাউস হাসান, প্রভাষক

মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ

মিরপুর, ঢাকা

 

পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি আলোকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা:

বাংলা প্রথমপত্রের ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গল্পের   গুরুত্বপূর্ণ  সৃজনশীল  প্রশ্নোত্তর

১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং এর আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জোগাতে নেপথ্য ভূমিকা রেখেছিল। তারেক মাসুদ ‘মুক্তির গান’ প্রামাণ্যচিত্রে দেখিয়েছেন শিল্পীরা বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের ক্যাম্পে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্সাহিত করছেন। যুদ্ধ কেবল মুক্তিযোদ্ধারা করেনি। এ যুদ্ধে শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, নাট্যকার ও শব্দ সৈনিক সবারই ভূমিকা ছিল।

ক. যুদ্ধের সময় জামী কোন শ্রেণির ছাত্র ছিল?

খ. ‘নিয়াজীর আত্মসমর্পণ আনন্দের কিন্তু শরীফের কুলখানি বেদনার’ কেন? বুঝিয়ে লেখ।

গ. উদ্দীপকের ভাবনা ‘একাত্তরের দিনগুলি’র কোন দিককে উন্মোচিত করেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকের অনুভব একাত্তরের দিনগুলির সমগ্র অনুভবকে ধারণ করে কি? মূল্যায়ন করো।

(ক) উত্তর:যুদ্ধের সময় জামী দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

(খ) উত্তর: ‘নিয়াজীর আত্মসমর্পণ আনন্দের কিন্তু শরীফের কুলখানি বেদনার’ কারণ লেখিকার মনে দুইটি প্রেক্ষাপট দুই ধরনের অনুভূতির সঞ্চার করে। একটি ঘটনা লেখিকাকে দেয় বিজয়ের আনন্দের উচ্ছ্বাস আর একটি জাগায় প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা। ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনা থেকে জানা যায়, শরীফ ছিলেন লেখিকার স্বামী। তাই বাংলার শত্রু নিয়াজীর আত্মসমর্পণ লেখিকার বিজয়ের উল্লাসকে জাগ্রত করলেও স্বামী হারানোর ব্যথায় লেখিকার সে আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। তাঁর মনে সৃষ্ট মিশ্র অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই মূলত লেখিকা এ উক্তিটির উদ্ভব করেছেন।

(গ) উত্তর:মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী সাহিত্যিকদের অবদানের যে দিকটি ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনায় তুলে ধরা হয়েছে উদ্দীপকটি তা উন্মোচিত করেছে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এসব মানুষ সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করেছেন। ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনায় শিল্পী—সাহিত্যিকদের অবদানের এ দিকটি প্রচ্ছন্নরূপে প্রকাশিত হয়েছে। রচনায় দেখা যায়, শিল্পী, সাহিত্যিক ও নাট্য অভিনেতার মতো মানুষ বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতো। এসব বাঙালি ব্যক্তিত্বজন ছদ্মনাম ব্যবহার করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে পাকবাহিনীর অত্যাচারের প্রকৃত স্বরূপ বিশ্ববাসীকে জানাতো। তারা বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে হানাদার বাহিনীর আকৃতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্য নিয়ে হাস্যরসাত্মক কবিতা প্রচার করতো। এগুলোকে বলা হতো চরমপত্র। এ চরমপত্রগুলো দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করতো। অনুরূপভাবে উদ্দীপকের তারেক মাসুদ কর্তৃক নির্মিত ‘মুক্তির গান’ প্রামাণ্যচিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য শিল্পীদের তত্পরতা লক্ষ্য করা যায়। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করেছিল। আবার শিল্পী-সাহিত্যিকদের অবদানের এ দিকটি ‘একাত্তরের দিনগুলি, রচনায়ও ভিন্নভাবে ফুটে ওঠেছে।         

                 

                পরের অংশ আগামীকাল