অবাক পৃথিবী

বরফের দেশের এস্কিমোরা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:০৩

 

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে শীতকাল আসে পিঠাপুলি, খেজুরের রস, গুড় আর বিভিন্ন পালা-পার্বণের পসরা সাজিয়ে। যদিও দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি এবং প্রতি বছরই তীব্র শৈত্যপ্রবাহে গরিব এবং নিম্নবিত্ত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তবু শীতকাল ঐতিহ্যগতভাবেই আমাদের সংস্কৃতিতে উত্সবের ঋতু হিসেবেই স্বীকৃত। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আর অঞ্চল রয়েছে যেখানে শীত মানেই শুধু বেঁচে থাকার সংগ্রাম। পৃথিবীর উত্তর মেরুর এই শীতপ্রধান অঞ্চলগুলোতে প্রায় ছয় মাস সূর্যের কোনো দেখা মেলে না। তীব্র শীত আর দিন-রাতের ভারসাম্যহীনতার মাঝেও এসব অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের নিজস্ব জীবনধারাকে মানিয়ে নিয়েছে!

উত্তর আমেরিকা, পূর্ব সাইবেরিয়া, গ্রিনল্যান্ড প্রভৃতি সুমেরুবৃত্তীয় অঞ্চলের তেমনই বিচিত্র এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এস্কিমো। প্রতিকূল আবহাওয়া আর বরফের মাঝে বসবাসকারী এস্কিমোদের জীবনযাপন আর সংস্কৃতিতে রয়েছে বৈচিত্র্য এবং নিজস্বতা। আঞ্চলিক ভাষায় এস্কিমোদের বলা হয় ইনুইট, ইনুপিয়াট, ইউপিক কিংবা অ্যালুইট। এস্কিমোরা বসবাস করে ইগলু নামক বরফের তৈরি বাড়িতে। রাতের আঁধারে পশুর চর্বির বাতির আলোয় ইগলুকে মনে হয় স্ফটিকের বল। পশুর চামড়ার তৈরি তাঁবুতেও বসবাস করে অনেক এস্কিমো গোষ্ঠী। নিজস্ব কোনো দেশ না থাকায় কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করে না তারা, যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়ায় উত্তর মেরুর তুষারাবৃত অঞ্চলে।  এস্কিমোরা তীব্র শীত থেকে সুরক্ষা পেতে বলগা হরিণের চামড়া আর পশম দিয়ে তৈরি পোশাক পরিধান করে থাকে। বরফাবৃত অঞ্চলে কৃষিকাজ এবং ফসল উত্পাদন সম্ভব নয় বলে এস্কিমোদের প্রধান খাবার সিল, তিমি, বলগা হরিণের মাংস, জমাট দুধ, রক্ত, চর্বি আর মাছ। হারপুন কিংবা কোচ জাতীয় অস্ত্র দিয়ে তারা সিল মাছ শিকার করে। কাঠ আর সিল মাছের চামড়ার তৈরি উমিয়াক নামক বড় নৌকা নিয়ে তারা শিকার করে তিমি মাছ।

এস্কিমোরা বলগা হরিণ লালনপালন করে এবং তারা সাধারণত কাচা মাংস খেতেই ভালোবাসে। বরফের মাঝে চলাফেরা করার জন্য তারা কুকুরের টানা স্লেজ গাড়ি ব্যবহার করে। ভয়ংকর বদমেজাজি কিন্তু পরিশ্রমী হাস্কি প্রজাতির  কুকুরগুলো গ্রামের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশপাশি বলগা হরিণগুলোকে চোখে চোখে রাখে, যাতে কোনো হরিণ দলছুট না হয়। এস্কিমোরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোত্রে বিভক্ত, তাদের নিজেদের মধ্যে এখনো দ্রব্য বিনিময় প্রথা চালু রয়েছে। তবে আধুনিক এই যুগে এস্কিমোদের জীবনধারাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী হারপুনের পরিবর্তে তারা শিকারের জন্য বন্দুক ব্যবহার করছে আর চলাচলের জন্য ব্যবহার করছে স্নো মোবাইল।

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে উত্তর মেরুর আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে এবং দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছে। ফলে অনেক এস্কিমোই যাযাবর জীবনের ইতি ঘটিয়ে শহরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে এবং নানা রকম পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছে।