করোনার প্রভাব
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা
করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে পাইকগাছার কাঁকড়া খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের বাজারেও কাঁকড়ার দাম কমে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট খামারিরা। অব্যাহত লোকসানে ইতিমধ্যে ছোট-বড় বেশ কিছু খামার বন্ধ হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরেই নানা প্রকার রোগবালাইয়ের কারণে চিংড়ি চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় অনেক খামারিই কাঁকড়া চাষে ঝুঁকে পড়েন। তাতে লাভও ভালো হতে থাকে। কিন্তু ২০২০ সালের প্রথম দিকে করোনার থাবায় কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। রপ্তানি বন্ধ ও দাম কমে যাওয়ায় সব খামারি কাঁকড়া বিক্রি করতে পারেননি। এক পর্যায়ে পুকুরেই কাঁকড়া মরে যায়। তবে করোনার প্রকোপ সামান্য কমতে থাকলে গত অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে আবারও অনেক খামারি চাষ শুরু করেন। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ থাকায় উত্পাদিত কাঁকড়া অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলার কাঁকড়া ব্যবসায়ী শেখ আনারুল ইসলাম, শুশান্ত, কামরুল ইসলাম, দেবু ঘরামী বলেন, রপ্তানিযোগ্য কাঁকড়া সাধারণত পাঁচটি গ্রেডে বিক্রয় হয়। বর্তমানে প্রত্যেক গ্রেডের দাম ৩০০-৪০০ টাকা কেজিতে কমেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে ২০০ গ্রাম (ফিমেল) ওজনের কাঁকড়ার কেজি ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, ঐ কাঁকড়া বর্তমানে ৮০০ টাকা। ১৮০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়া ছিল ১ হাজার টাকা, তা বর্তমানে ৬০০ টাকা। ১৫০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়া ছিল ৮০০ টাকা, এখন তা ৪০০ টাকা। ১০০ গ্রাম ওজনের কাঁকড়া ছিল ৬০০ টাকা কিন্তু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। এমন দামে কাঁকড়া বিক্রি করে চাষিদের যেমন খরচ ওঠে না, তেমনি ব্যবসায়ীদেরও লোকসানে পড়তে হয়। পাইকগাছা উপজেলা কাঁকড়া সরবরাহ সমিতির সদস্য শেখ ইমাদুল, দেব্রতরা জানান, সারা দেশে ২ লক্ষাধিক মানুষ কাঁকড়া চাষ ও ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন পিন্টু বলেন, বর্তমান সময়ে উপজেলার কাঁকড়াচাষির সমস্যা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এ নিয়ে চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেছি। তাদের জন্য কী করা যায়—সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, পাইকগাছার কাঁকড়া রপ্তানি হয়ে থাকে। করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ হয়েছে, তাদের কষ্টের কথা শুনেছি। আমি চেষ্টা করছি তাদের বিষয় ওপর মহলে জানানোর জন্য।
