দুই সাবসিডিয়ারিতে ১৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪৫

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বেসরকারি খাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধি ও নিজস্ব মুনাফা বাড়াতে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি-কর্ণফুলী পাওয়ার ও বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারে ১৪৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড। কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে ২১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি সাবসিডিয়ারিতে ১৪৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ইক্যুইটি বিনিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে খরচ করবে। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটি দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করে। যার একটি কর্ণফুলী পাওয়ার লিমিটেড এবং অন্যটি হলো বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার লিমিটেড। সাবসিডিয়ারি দুটির ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার। উল্লেখ্য, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ২০০৭ সালে ৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় বারাকা পাওয়ারের।

এরপরে ২০১৪ সালে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল জ্বালানি ভিত্তিক ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র চট্টগ্রামে স্থাপনের অনুমতি পায়। কর্ণফুলী পাওয়ার ১১০ মেগা-ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ফার্নেস ওয়েলভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করে। বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ২০১৯ সালের মে মাসে। এটি ১০৫ মেগা-ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এইচএফও ভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র। সম্প্রতি বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর কাদির শাফি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুত্ খাতে আমরাই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যারা ডি-সালফারাইজেশন প্রযুক্তির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছি। যা সালফার নিঃসরণকে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রাখতে সক্ষম। তিনি আরো বলেন, সঞ্চালন লাইনের অপর্যাপ্ততার কারণে আমাদের দুটি সাবসিডিয়ারি বিদ্যুেকন্দ্র সম্পূর্ণরূপে উত্পাদনে যেতে পারছে না। তবে, আগামী মে ২০২১-এ আমরা সম্পূর্ণ উত্পাদনে যেতে সক্ষম হব এবং আমাদের কোম্পানির আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী চৌধুরী বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সম্পৃক্ত হওয়ার ফলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে আরো বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বৃহত্তম বিদ্যুত্ উত্পাদনকারী কোম্পানিতে উন্নীত হওয়া।

বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের যৌক্তিক মূল্য (কাট অব প্রাইস) নির্ধারণে নিলাম আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্ব্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৭৫৫তম সভায় বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারকে বিডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।