দীর্ঘ ৪০ বছরের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা অবশেষে মানবদেহে ক্যানসারের জন্য দায়ী এক ধরনের ‘জেনেটিক পরিবর্তন’ চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চিকিত্সার মানোন্নয়ন করার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। একই সঙ্গে এই আবিষ্কারের মাধ্যমে ফুসফুস ক্যানসার এবং কোলন ক্যানসারের চিকিত্সায় নতুন ধরনের ওষুধ আবিষ্কারের পথও খুঁজে পাওয়ার আশা করছেন। এই গবেষণা ফল থেকে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘আমজেন’ এরই মধ্যে নতুন এক ধরনের ওষুধ তৈরি করেছে বলেও জানানো হয়েছে। ‘আমজেন’ গত সপ্তাহে ফুসফুস ক্যানসারের এক বৈশ্বিক সম্মেলনে এই তথ্য জানায়।
অন্যান্য কোম্পানিও এই ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ তৈরির পথে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। আমজেনের তৈরি ওষুধটি এক ধরনের ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত ওষুধটি ক্যানসার তৈরির জন্য দায়ী ‘কেআরএএস জি ১২সি’ নামের এক ধরনের মিউটেশনকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়। সাত মাস এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করায় রোগীদের টিউমারের বৃদ্ধি পুরোপুরি থেমে যায়। এছাড়া ১২৬ রোগীর ওপর ওষুধ প্রয়োগ করার পর দেখা গেছে তিন জনের দেহের ক্যানসার পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে। তবে এই ওষুধ প্রয়োগ করার পর কারো কারো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ডায়রিয়া, বমি ভাব কিংবা শরীর দুর্বল লাগতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস সাউথওয়েস্টার্ন মেডিক্যাল সেন্টার ইন ডালাসের ফুসফুস ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. জন মিন্না বলেন, ফুসফুস ক্যান্সার রোধে আমজেনের নতুন আবিষ্কৃত ওষুধটি অন্যান্য ওষুধের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা-ও আমরা যাচাই করে দেখছি।
অবশ্য ডানা-ফার্বার ক্যানসার ইনস্টিটিউট ইন বোস্টনের প্রধান ক্লিনিক্যাল রিসার্চ কর্মকর্তা ড. ব্রুস জনসন বলেন, আমজেনের ওষুধটি সেভাবে কার্যকর প্রমাণিত না হলেও তা ক্যানসার চিকিত্সায় ব্যবহূত অন্য ওষুধের সঙ্গে প্রয়োগ করায় অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চর্ম ক্যানসার চিকিত্সার ক্ষেত্রে দেখা যায় একটি নির্দিষ্ট মিউটেশনের ওপর আমজেনের ওষুধটির তেমন প্রভাব পাওয়া যায়নি। কিন্তু আমজেনের ওষুধটির সঙ্গে যখন অন্য কিছু ওষুধ সমন্বয় করা হয় তখন বিস্ময়কর ফল মিলেছে। তিনি বলেন, এই গবেষণার ওপর আলোকপাত করার পর ক্যানসার চিকিত্সায় আমি আরো বেশি আশান্বিত হচ্ছি।
এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে ২ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে এসব রোগীদের বেশির ভাগেরই কোনো চিকিত্সাব্যবস্থা থাকে না।—নিউ ইয়র্ক টাইমস
