পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভুল ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের জন্য কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। গতকাল শনিবার ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ‘মুজিব শতবর্ষে এক্সিম ব্যাংক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বুঝেছে যে এটা মিথ্যা তথ্য। সেটা আমরা দেখব। তথ্যগত ভুল তুলে ধরে আমরা মামলা করব। আমরা সেটার জন্য কাজ করছি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এই যে আলজাজিরায় যেটা বের হয়েছে, আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিনি। এখন এসএসএফ গার্ড দেয়। তার ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোনো দিন কোনো বডিগার্ড ছিল না। তার বডিগার্ড সব নেতাকর্মী। আমরা কোনো দিন দেখিনি পয়সা দিয়ে বডিগার্ড রাখতে। প্রতিবেদনে লিখেছে তার দুই বডিগার্ড!
মন্ত্রী তার চারপাশে উপস্থিত লোকজনকে ইঙ্গিত করে বলেন, এখন ধরেন আমার পেছনে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন। আমরা তাদের সবাইকে চিনি না। নেত্রী যখন বক্তৃতা দেন, তখন পেছনে অনেকেই দাঁড়ান। আমরা গণতান্ত্রিক দেশ। আমিও যখন বক্তৃতা দেই, আমার পেছনেও অনেকেই দাঁড়ান। আমি তার খুব কম লোককেই চিনি। কিন্তু ওখানে একজনের ছবি দিয়ে বলছে কী, ওটা ওনার বডিগার্ড। এ রকমের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। টেকনিক্যালি বানোয়াট তথ্য জোড়াতালি দিয়ে আলজাজিরা যে প্রতিবেদন করেছে, তাতে তারা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারের নতুন সামরিক জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের কারণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা একটি চিঠি দিয়েছে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে এবং সেখানে তারা বলেছে কী কারণে তারা ক্ষমতা নিয়েছে। এরপরে আমরা আর কোনো তথ্য পাইনি। চিঠির বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তারা বলছে যে ১ কোটি ৪ লাখ ভুয়া ভোট হয়েছে, ভুয়া ভোটের কারণে তাদের দায়-দায়িত্ব আছে এটাকে শোধরানোর।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে খবর এসেছে, রাখাইনে নতুন মিলিটারি কমান্ডাররা রাখাইনের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়েছিলেন এবং তাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। আর্মি তাদের অভয় দিয়েছে। এগুলো ভালো সংবাদ। নতুন শুরু। তবে এ খবর এখনো সরকারিভাবে আসেনি।
আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুজিব শতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী।
