মোহাম্মদপুরে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মর্তুজার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৫১

মদপানে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঐ ছাত্রীর সঙ্গে রায়হানের শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। এর আগে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া মর্তুজা চৌধুরীকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এছাড়া গতকাল শনিবার তাদের আরেক বন্ধু নুহাদ আলম তাফসিরকে পুলিশ আদালতে হাজির করে। আদালত তাফসিরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, ঐ ছাত্রীর বন্ধু মর্তুজা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি ঐ ছাত্রীর সঙ্গে একবার শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ধরে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তবে তাদের বন্ধু তাফসিরের সঙ্গে মদপান বা অন্যান্য ঘটনার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তাকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে মর্তুজা বলেছেন, ইউল্যাবে একই বিভাগে পড়াশুনা করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে তারা দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এদিন বিকালে তারা হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজার সামনে একত্রিত হন। সন্ধ্যার পর তারা উত্তরায় ৩ নম্বর সেক্টরে ‘ব্যাম্বু সুট’ রেস্টুরেন্টে মিলিত হন। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বন্ধু ফারজানা জামান নেহা ও সাফায়েত জামিল। রেস্টুরেন্টে তারা পাঁচ জন একত্রিত হয়ে মদপান করেন। মদ সরবরাহ করে সাফায়েত জামিল। এক পর্যায়ে নেহা অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং রেস্টুরেন্টের ওয়াশরুমে গিয়ে বমি করে। তখন নেহা ও সাফায়েত চলে যায়। রেস্টুরেন্টে আরাফাত, রায়হান ও ঐ তরুণী মদপান করেন। এক পর্যায়ে ঐ তরুণী টয়লেটে গিয়ে বমি করেন। সেই অবস্থা দেখে মর্তুজা ও আরাফাত ঐ তরুণীকে নিয়ে একসঙ্গে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে একটি উবার নেয়। উবারে ঐ তরুণী ও রায়হানকে গুলশান-২ এ নামিয়ে দেয় আরাফাত।

গুলশান-২ এ নেমে ঐ তরুণী বলে যে, সে বাসায় যাবে না, তাকে তার বান্ধবী তাফসিরের বাসায় নিয়ে যেতে বলে। তখন তারা দুই জন মিলে মোহাম্মদপুর হোমস লিমিটেডে তাফসিরের বাসায় যায়। সেদিন তাফসির বাসায় একা ছিলেন। রাতে মর্তুজা ও ঐ তরুণীর শারীরিক সম্পর্ক হয়। ৩১ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যান ঐ তরুণী। এর আগে ৩০ জানুয়ারি দুপুরে ঐ তরুণীর বাবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। ঐ দিন রাতে তিনি থানায় একটি মামলা করেন।