পরিবেশ দূষণ
হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
মাটি দূষণ কেন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ?
উত্তর:মাটিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর বস্তু মেশার ফলে মাটি দূষিত হয়। এই দূষিত মাটিতে ফসল চাষ করলে উত্পন্ন খাদ্যশস্যতে দূষিত জীবাণু থেকে যায়। যা রান্নার পরও খাবারে বিদ্যমান থাকে। ফলে এসব ফসল খাদ্য হিসেবে গ্রহণের ফলে মানুষের দেহে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। একারণেই মাটি দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কেন পরিবেশ দূষিত হয়?
উত্তর :জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য মানুষ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করছে। এতে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যেমন- মানুষ তার খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য গাছপালা কেটে ফসল চাষ করছে। আবার আসবাবপত্র, কলকারখানা তৈরির জন্য গাছপালা কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এছাড়া বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পানি দূষিত করছে। বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এ থেকে নির্গত ধোঁয়া দিয়ে বায়ু দূষণ হচ্ছে। জনসংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে এসব কর্মকাণ্ড তত বেশি বৃদ্ধি পাবে, ফলে পরিবেশ আরও বেশি দূষিত হবে।
৬. মাটি ও পানি দূষণের সাদৃশ্য কোথায় ?
উত্তর : মাটি ও পানি দূষণের সাদৃশ্য নিম্নরূপ-
মাটি ও পানি দুটিই পরিবেশের উপাদান। তাই উপাদান দুটি দূষিত হলে পরিবেশও দূষিত হয়।
দুটি দূষণের একটি বড় কারণ হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য মানুষ মাটি ও পানি উভয়ই দূষিত করে।
দুটি দূষণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ফলে হয়ে থাকে।
রাসায়নিক সার, কীটনাশক, গৃহস্থালির বর্জ্য, রাসায়নিক বর্জ্য ইত্যাদি ক্ষতিকর পদার্থ মাটি ও পানি উভয় ধরনের দূষণ ঘটায়। উভয় দূষণই মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।
৭. পরিবেশ দূষণের কারণসমূহ লেখ।
উত্তর:পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিল্পায়ন। শিল্প কারখানা সচল রাখতে বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন- তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ইত্যাদির ব্যবহার পরিবেশ দূষণের প্রধান উত্স। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণের আরও একটি বড় কারণ। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য মানুষ পরিবেশ ধ্বংস করছে। পরিবেশের বেশির ভাগ দূষণ মানুষের দৈনিক কর্মকাণ্ডের ফলেই হয়ে থাকে।
ব্রিটিশ শাসন
মিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
১। পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে লিখ।
উত্তর:পলাশী যুদ্ধের ফলাফল-
সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও তিনি ছিলেন নামে মাত্র নবাব, প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে। ফরাসীরা এদেশ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়।
এ যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে থাকে।
পলাশী যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এভাবেই এ যুদ্ধের ফলে বাংলার তথা ভারতের স্বাধীনতা ভুলণ্ঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধ একটি খণ্ডযুদ্ধ হলেও বাংলা তথা উপমহাদেশের রাজনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
২। সিপাহী বিদ্রোহে বাংলার ভূমিকা কী ছিল ?
উত্তর:১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ ছিল বাংলার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিপাহিদের দ্বারা এ বিদ্রোহ শুরু হলেও তা দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সিপাহি বিদ্রোহ বাংলায় শুরু হয়েছিল। পশ্চিম বাংলার ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে এ বিদ্রোহ শুরু হয়ে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। কোম্পানির সৈনিকদের বিরুদ্ধে বাংলার সৈনিকদের বিদ্রোহের ফলে ভারতের অন্যান্য স্থানে এ সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সমগ্র ভারতে কোম্পানির সৈন্যদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান হয়। ব্রিটেনের তখনকার রানি মহারানি ভিক্টোরিয়া স্বাধীনভাবে ভারত শাসন করতে থাকেন।
