কাইল রিকো মায়ার্স। বার্বাডোজের ২৮ বছর বয়সী এ তরুণ ক্রিকেট বিশ্বে খুব পরিচিত মুখ নন। চট্টগ্রামের ২২ গজে রবিবার ব্যাট হাতে তার কীর্তির প্রশংসায় মাতোয়ারা এখন ক্রিকেট দুনিয়া। মাইকেল ভন, বিরেন্দর শেবাগরা টুইটারে ঝড় তুলছেন মায়ার্সের বন্দনায়। কারণ টেস্ট অভিষেকেই ইতিহাস গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মায়ার্স। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৪ বছরের ইতিহাসে এমন রেকর্ড নেই আর কারো। অভিষেকেই ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে করা প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মায়ার্স।
রবিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে অপরাজিত ২১০ রানের অসামান্য ইনিংস খেলেছেন এ বাঁহাতি। তার দৃঢ়চেতা ডাবল সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশকে ৩ উইকেটে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে উইন্ডিজরা। ৩৯৫ রান তাড়া করে জিতেছে সফরকারীরা।
মেয়ার্স মূলত অলরাউন্ডার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবং মিডিয়াম পেস বোলিং করেন ডানহাতে। ওয়ানডে সিরিজেও নিজের সামর্থ্যের ঝলক কিছুটা দেখিয়েছিলেন। টেস্টে এসে নিজেকে মেলে ধরলেন পরিপূর্ণভাবে। প্রথম ইনিংসে ৪০ রান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিংটা আবর্তিত হয়েছে তার ব্যাটকে ঘিরেই। পাঁচ নেমে ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। আরেক অভিষিক্ত এনক্রুমা বনারকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ২১৬ রানের জুটি গড়েছেন। তাতেই রানের পাহাড় জয়ের ভিত পেয়ে যায় উইন্ডিজরা।
স্পিনের বিপক্ষে নাকি বরাবরই দুর্বল মেয়ার্স। সর্বশেষ সিপিএলে (ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) ৮৪ বলের মাঝে ৫বার আউট হয়েছেন স্পিনে। বাংলাদেশে এসে ওয়ানডেতে দুবার, টেস্টের প্রথম ইনিংসেও স্পিনের বিপক্ষেই আউট হয়েছেন। কিন্তু রবিবার চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় ভাস্বর মেয়ার্স। মিরাজ, তাইজুল, নাঈমদের সকল চেষ্টা প্রতিহত হয়েছে তার ব্যাট নামক দেয়ালে।
৮৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন লাঞ্চের আগে। লাঞ্চের পর ১৭৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ বিকেলে অভিষেকেই ডাবল সেঞ্চুরির গৌরব অর্জন করেন তিনি।
দিনভর একের পর এক মাইলফলক পার হয়েছেন, সঙ্গে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন জয়ের পথে। ধৈর্য্য দেখানোর সঙ্গে ব্যাটিংয়ের আক্রমণাত্মক রূপটাও দেখিয়েছেন মেয়ার্স। ৩১০ বল খেলে মেরেছেন ২০টি চার ও ৭টি ছয়।
টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ষষ্ঠ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস খেলা এবং দলকে জেতানোর পর উচ্ছ্বসিত মেয়ার্স। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময় ইতিবাচক মানুষ। আমি সবসময় নিজের সামর্থ্য ও দলে বিশ্বাস করি। আমরা কখনো হাল ছাড়িনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট খেলা দারুণ বিষয়। তারপর সেঞ্চুরি করা এবং পরে ডাবলে রূপ দেয়া, টেস্টটা জেতা। আমি আমার সতীর্থ, কোচ, দেশে থাকা পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই।’
ইত্তেফাক/এসআই
