চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সদ্য অভিষেক হওয়া দুই অলরাউন্ডার কাইল মেয়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরি ও এনক্রুমা বনারের হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে গতকাল বাংলাদেশক ৩ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। এই জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
চতুর্থ দিন পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও গতকাল শেষ দিনে আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি বাংলাদেশকে। বোলিংয়ে ছিল না বৈচিত্র্য, ফিল্ডিংও ছিল ঢিলেঢালা গোছের। বাংলাদেশের স্পিনারদের সাদামাটা বোলিংকে পরোয়া না করে অনায়াসে ২১৬ রানের জুটি গড়েছেন মেয়ার্স ও বনার। সারা দিনে চারটি উইকেট পড়েছে সফরকারীদের, যার দুটি পেয়েছেন তাইজুল। বাকি দুটি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। ৩১০ বলে ৭ ছক্কা ও ২০ বাউন্ডারিতে ২১০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলা মেয়ার্স হয়েছেন ম্যাচ-সেরা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৯ ম্যাচে এটি দ্বিতীয় জয় ক্যারিবিয়ানদের। বিপরীতে চার ম্যাচেও টাইগারদের পয়েন্টের খাতাটা থাকল শূন্যের কোটায়। গতকাল ৩৯৫ রান তাড়া করে এশিয়ার মাঠে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে ২০০৮ সালে এই মাঠেই ৩১৭ রান তাড়া করে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড।
টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার রেকর্ডটাও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সাত উইকেটে ৪১৮ রান তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল উইন্ডিজরা। শিবনারায়ণ চন্দরপল ও সারওয়ানের জোড়া সেঞ্চুরিতে স্টিভ ওয়াহর দলকে হতাশা উপহার দিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েছিলেন চন্দরপল-সারওয়ান। গতকাল চট্টগ্রামে মেয়ার্স-বনারের ২১৬ রানের জুটিতে অ্যান্টিগার সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আগের দিনের ১১০ রান ও ৭ উইকেট হাতে নিয়ে গতকাল সকালে ব্যাট করতে নামে উইন্ডিজরা। তার আগে সাবেক ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলার এজরা মোজলির মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করে দুই দল।
প্রথম সেশনে অবিচ্ছিন্ন থেকে পরের সেশনেই বনারের ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি এবং মেয়ার্সের প্রথম সেঞ্চুরি হয়ে যায়। এই জুটির ২০০ রান পূর্ণ হয় চা বিরতির আগেই। তৃতীয় সেশনে তাইজুলের বলে বনারের বিদায়ের পর
বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জার্মেইন ব্ল্যাকউড। তাতে বাংলাদেশের জয়ের আশাও জ্বলে ওঠে নিভু নিভু করে।
কিন্তু উইকেট কিপার জশুয়া দা সিলভাকে নিয়ে ১০০ রান যোগ করে সব আশা গুঁড়িয়ে দেন মেয়ার্স। জয় থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থেকে সিলভা বিদায় নিলে শেষ বল পর্যন্ত পেসার কেমার রোচ ছিলেন মেয়ার্সের সঙ্গে।
