চট্টগ্রাম বন্দর

বার্থ অপারেটর নিয়োগে প্রতিযোগিতাহীন টেন্ডার আজ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৫

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিযোগিতাহীন বার্থ অপারেটর নিয়োগের টেন্ডার আজ সোমবার। সম্প্রতি বার্থ অপারেটর নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করে বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কিন্তু বিগত সময়ে দেখা গেছে, বার্থ অপারেটর টেন্ডারের দরপত্র ঠিক করেছে এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অ্যাসোসিয়েশন। কারণ টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী যোগ্যতাসম্পন্ন বার্থ অপারেটরের সংখ্যা এবং বার্থের সংখ্যা সমান হওয়ায় দর কমানো-বাড়ানোর কোনো প্রতিযোগী থাকে না। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান একটি করে বার্থ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় এবং সে হিসেবে রেটও একই হতে দেখা  গেছে।

বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টসংখ্যক প্রতিষ্ঠানকেই দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের জিসিবি এলাকার ছয়টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং বার্থের জন্য ছয়টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আজ ঐ ছয়টি বার্থের অপারেটর নিয়োগের টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন।

টেন্ডারের শর্তানুযায়ী বন্দরের ৯, ১০, ১১, ১২ এবং ১৩ নম্বর বার্থে প্রতিটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য কত টাকা দরে কাজ করতে পারবে তা উল্লেখ-পূর্বক দর দাখিল করবে। এছাড়া শর্তানুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দুইটি বার্থে কাজ করার জন্য দরপত্র দিতে পারবে। অপারেটর নিয়োগের সবচেয়ে বড় যে শর্ত তা হলো বিগত ১০ বছরের মধ্যে যে কোনো দুই বছরে কমপক্ষে ১ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। দেশের মধ্যে যে কোনো বন্দরে ঐ সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের যোগ্যতার কথা বলা হলেও চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়া অন্য কোনো বন্দরে ঐ পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডলিং এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব নয়।

ফলে ঘুরেফিরে দেখা যায়, ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে যারা কাজ করছে তারাই একমাত্র যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে কর্মরত শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক জানিয়েছেন, শর্ত যুক্ত না করে উন্মুক্ত রাখা হলে যে কেউ উক্ত কাজ আরো অনেক কম দরে বা মূল্যে করতে পারবে। কারণ বন্দরের জেটিতে কর্মরত ছয় ধরনের নির্দিষ্ট শ্রমিকরাই ঐসব কাজ দীর্ঘদিন করে আসছে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি বা টেকনোলজির প্রয়োজন পড়ে না।

তবে বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী জানান, তারা বার্থসমূহে পরিচালনায় যে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেছেন তার মাধ্যমে বন্দরের উত্পাদনশীলতা দিনদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি ক্রয় নীতিমালার আলোকে বন্দর কর্তৃপক্ষের টেন্ডারের শর্তানুযায়ী তারা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে আসছেন।

এদিকে জানা যায়, জিসিবির ছয়টি কনটেইনার বার্থের জন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বন্দরের টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ার টেক, কিউসি ট্রেডিং, এম এ মালেক ও দস্তগীর নামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ফরম সংগ্রহ করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পূর্বের ছয়টি প্রতিষ্ঠানই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করবে। ফলে তাদের কর্তৃক ধার্য দরই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।