ইত্তেফাক রিপোর্ট
পর পর দুদিন বড় দরপতনে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে যাচ্ছেন। শেয়ারবাজারের এ পতন স্থায়ী রূপ নিচ্ছে কি না সে বিষয়েও আশঙ্কা করছেন তারা। বছরের শুরু থেকেই যখন শেয়ারবাজার ভালো হচ্ছিল তখন যে আশা আলো দেখছিলেন তা এখন হতাশায় রূপ নিচ্ছে। হঠাত্ করে কেন শেয়ারবাজার কেন পতনমুখী হলো সে বিষয়টি অনেকের কাছেই বোধগম্য নয়।
চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিনেই ২৭০ পয়েন্ট দরপতন হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪২ পয়েন্ট পতন হয়। আর গতকাল পড়ে ১২৮ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া শেয়ারের দাম বাড়ে মাত্র ২৩টির। পতন হয় ২৩৬টির।
শেয়ারের এমন দরপতনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ দায়ী কি না, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে তপশিলি ব্যাংকগুলোর তারল্য রক্ষা করে কতটুকু লভ্যাংশ দিতে পারবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের মে মাসে আরেক প্রজ্ঞাপনে ২০১৯ সালের ব্যবসার ওপর ব্যাংকগুলোর মুনাফা যথাসম্ভব অবণ্টিত রাখার কথা বলা হয়েছিল।
গতকাল বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র চারটি ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে। তিনটি ব্যাংকের দর পালটায়নি। বাকি সবগুলো ব্যাংকের শেয়ারের দর কমেছে। তবে পতন কেবল ব্যাংকের হয়নি। গত কয়েক মাস ধরে আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা বিমা কোম্পানিগুলো দর হারিয়েছে ব্যাপক হারে। তালিকাভুক্ত ৪৯টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র তিনটি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে।
গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২১৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৬৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩টির, কমেছে ২৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯১টি শেয়ার দর।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে, সিএসই ৫০ সূচক ৩৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক ২৩৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১৭৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টির শেয়ার দর। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
