রংপুরের পীরগাছায় ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্মানোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ টাকা। জন্ম নেওয়া সন্তানকে ওয়ারিশ ঘোষণাসহ তাকে ভরণপোষণ প্রদানের আদেশ দেন বিচারক। সোমবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত ধর্ষক শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর গ্রামের এক দিনমজুরের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতিবেশী মৃত মজিবর রহমানের ছেলে শফিকুল ইসলাম। এরই এক পর্যায়ে ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর বিকালে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ করে শফিকুল। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় মেয়েটি ধর্ষক শফিকুল ইসলামের কাছে সন্তানের স্বীকৃতি দাবি করলে তাতে রাজি হননি শফিকুল। ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে আদালতে শফিকুল, তার বাবা মজিবর রহমান, চাচা মমতাজ উদ্দিন ও ফুফু নজিরনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় ঐ কিশোরী। আদালতের নির্দেশে ঐ শিশু এবং ধর্ষকের ডিএনএ পরীক্ষা ও ছয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর গতকাল এ রায় ঘোষণা করা হলো। রায়ে শফিকুলের চাচা মমতাজ উদ্দিন ও ফুফু নজিরনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক। মামলা চলাকালীন অবস্থায় শফিকুলের বাবা মজিবর রহমান মারা যান।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, শিশুটিকে ধর্ষকের ওয়ারিশ হিসেবে ঘোষণা করে তাকে সম্পত্তির অংশীদারিত্ব দেওয়ার রায় দিয়েছেন বিচারক। শফিকুলের যদি কোনো সম্পত্তি না থাকে তাহলে রাষ্ট্রকে ঐ শিশুর দায়িত্ব গ্রহণের আদেশ দেন তিনি।
