ইতোমধ্যেই লিখে ফেলেছেন কয়েকটি বই। পড়াশোনা করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে। গান গাওয়া, আবৃত্তি, উপস্থাপনাসহ কোনো কাজেই পিছিয়ে নেই। এই তো কিছুদিন আগের কথা। ব্যাচ ট্যুরে মালিহাকে শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের সম্মতিক্রমে ‘মোস্ট ক্রিয়েটিভ স্টুডেন্ট অব দ্য ব্যাচ’ উপাধি দেওয়া হলো। না দিয়ে আর উপায় কী! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইলে তার পরিচিতির জায়গায় লিখেছেন—‘পেশায় ডাক্তার, গানের সঙ্গে প্রেম, লেখার প্রতি মোহাবিষ্ট, আবৃত্তির জন্য ব্যাকুল আর শখের বশে বাচিক শিল্পী।’ এতসব গুণ যার, তার পুরো নাম মালিহা তাবাসসুম। অনেক স্বপ্ন আর কল্পনা নিয়ে রূপকথার রাজ্যে বিচরণ করেন এই অলরাউন্ডার।
মালিহা তাবাসসুমের জন্ম ১৯৯৯ সালের ১৯ শে নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে। বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মালেক ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত, মা তাসলিমা খান কেয়া একসময় লেখালেখি করেছেন যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। ছোটবেলা থেকে বাসায় বইপড়া আর সাহিত্যচর্চার আবহের পাশাপাশি মায়ের অনুপ্রেরণায় পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখির হাতেখড়ি হয় মালিহার। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাশ করে মালিহা বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস অধ্যয়নরত। মেডিকেল কলেজের কাট্টাখোট্টা পড়াশোনার এতো চাপের মাঝেও সৃজনশীল কাজের প্রতিটি ক্ষেত্র চুম্বকের মত আকর্ষণ করে মালিহাকে। ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত আর কবিতা আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম পুরষ্কার পেয়েছেন ২০১৫ সালে। মালিহা বর্তমানে কিছু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ডাবিং আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশ বেতারের অন্তর্ভুক্ত সংগীতশিল্পীও তিনি। আর, এতো কাজের মাঝেও চালিয়ে যাচ্ছেন লেখালেখি।
মালিহা বলেন, ছোটবেলা থেকেই নাকি তাঁর নামের আগের ডাক্তার শব্দটা তার কাছে দারুণ লাগত। সে স্বপ্নে পূরণের পথেই হাঁটছেন এখন। তবে সেজন্য লেখালেখি, গান, আবৃত্তিসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি যে ভালোলাগা ছিল, সেটিও তার পিছু ছাড়েনি।
কলেজ ক্যাম্পাসে ‘ডি বিটস’ নামের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে তো তিনি আছেনই। মডেলিংটাও–বা বাদ যাবে কেন! সেটিও করেন। ই-মেইল ঠিকানায় তাঁর নাম ‘রকিং মালিহা’। প্রতিটি শিক্ষকই কমবেশি তাকে উৎসাহ দেন তার নানা কাজের ব্যাপারে।
২০১৯ এবং ২০২০ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত মালিহা তাবাসসুম এর বই- রোমান্টিক স্পাই থ্রিলার বৃত্তবন্দি এবং সাইকো থ্রিলার জিগোলো- বেশ পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। ২০২১ বইমেলার জন্য লিখছেন ফরেনসিক মেডিকেল ইনভেস্টিগেশন নিয়ে থ্রিলার।
মালিহা একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষদের সেবা দেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন। এছাড়াও তিনি নারীদের নিয়েও কাজ করছেন। থাকতে চান নারী উদ্যোক্তাদের পাশে। তবে, পেশায় চিকিৎসক হয়ে ওঠার পরও লেখালেখি, মডেলিং বা গান—প্রতিটি কাজের সাথেই সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। মালিহার ভাষায়, ‘আমার অনেক উদ্যম। আমি সব করতে চাই ভালোভাবে। আর বিশেষ করে তরুণ বয়সটাই তো মানুষের জন্য কাজ করার বয়স, একসাথে অনেক কাজ করার বয়স। এখন যদি না করি, তো আর কবে?'
ইত্তেফাক/এসটিএম
