মিয়ানমারে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপে বিক্ষোভ সহিংসতার দিকে যাচ্ছে। গতকাল বিক্ষোভ দমনে পুলিশ রাবার বুলেট ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে। আতঙ্ক ছড়াতে ফাঁকা গুলিও ছুড়েছে। এতে অন্তত চার বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে। আহত এক নারীর অবস্থা গুরুতর। এদিকে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করেছে নিউজিল্যান্ড। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
সামরিক শাসক জেনারেল মিন আং লাইং বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি এবং তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছে। সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর সু চিকে বন্দি করা হয়। সেনাবাহিনী দেশে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
পরিস্থিতি যেভাবে সংঘাতের দিকে গেল
রাজধানী নেপিডোতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ‘সামরিক একনায়কতন্ত্রের অবসান চাই’ বলে স্ল্লোগান দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর রাবার বুলেট চালিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দমনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং জল-কামানও ব্যবহার করে। গত সপ্তাহে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদ জানাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। সোমবার সামরিক সরকার কারফিউসহ কঠোর বিধিনিষেধ জারি করলেও গতকাল চতুর্থ দিনের মতো এই বিক্ষোভ চলে। কিছু শহরে বড় জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।
নেপিডোর এক হাসপাতালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিক্যাল অফিসার জানিয়েছেন, দুজন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছে। এদের একজনের মাথায় এবং একজনের বুকে আঘাত লাগে। আরেকটি ক্লিনিকের জরুরি বিভাগের এক ডাক্তার জানান, তিনি এমন তিন জনকে চিকিত্সা দিয়েছেন যারা সম্ভবত রাবার বুলেটে আহত হয়েছে। তাদের এখন প্রধান এক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অনেক অসমর্থিত খবরে দাবি করা হচ্ছে, অনেক জায়গায় পুলিশ পক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। অনেক জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীদের যেতে দিয়েছে।
এটা স্পষ্ট যে, পুলিশ অফিসাররা এখন বিক্ষোভকারীদের দমনে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখনো তারা প্রাণহানি হতে পারে এমন ধরনের বল প্রয়োগ করছে না। মিয়ানমারে ১৯৮৮ এবং ২০০৭ সালে কয়েক দশক ধরে চলা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনের সময় অনেক বিক্ষোভকারী নিহত হয়।
বিক্ষোভকারীরা কী বলছে
ইয়াঙ্গুনে জাতিসংঘের একটি ভবনের সামনে এক বিক্ষোভকারী বলেন, পাঁচ জনের বেশি মানুষের জমায়েত যে নিষিদ্ধ তা আমরা জানি। কিন্তু তারপরও আমরা এখানে এসেছি, কারণ আমাদের প্রেসিডেন্ট এবং আমাদের জননী সু চিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে হবে। একজন নারী বিক্ষোভকারী বলেন, তরুণদের একটা ভবিষ্যত্ আছে, কাজেই আমরা কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারি না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ তাদের মুক্তি দেওয়া না হয়। মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অং সান সু চির ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচিত হলেও স্বদেশে তিনি তুমুল জনপ্রিয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল জয় পান।
সম্পর্ক স্থগিত নিউজিল্যান্ডের
নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে সামরিক শাসন জারির প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নিউজিল্যান্ড সফরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডন বলেন, ‘আমরা কঠোর বার্তা দিতে চাই। আমরা বলতে চাই, এখানে নিউজিল্যান্ডে বসে যা যা করা সম্ভব, তার সবই আমরা করব। উচ্চ পর্যায়ের সব আলোচনা আমরা স্থগিত করব। এমন কোনো সাহায্য আমরা মিয়ানমারে দেব না, যেটা সামরিক সরকারকে সুবিধা দেবে।’ ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারকে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের সহায়তা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
