মির্জাপুরে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:১৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প। অভাব অনটনের মধ্যে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শিল্পীর চলছে দুর্দিন। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা চরম কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

মৃৎশিল্পীদের মধ্যে ধীরেন পাল (৬৫) এবং যতীন পাল (৬০)  জানান, এক সময় এলাকায় মৃৎশিল্পের খুব কদর ছিল। মৃৎশিল্পের মধ্যে ছিল হাড়ি, পাতিল, চাড়ি, ফুলের টপ, চালুনী, মটকি, থালাসহ বিভিন্ন উপকরণ। এসব উপকরণ দিয়ে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার তাদের প্রয়োজনীয়তা মেঠাতো। মির্জাপুর পৌরসভা, জামুর্কি, মহেড়া, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বুহরিয়া, গোড়াই, তরফপুর, আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মৃৎশিল্পীদের বসবাস ছিল। এসব গ্রামের মৃৎশিল্পের বেশ কদর ছিল। এসব এলাকার মৃৎশিল্প গাজীপুর, রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চট্রগ্রামসহ দেশে বিদেশে রফতানি হতো। 

মৃৎশিল্পের পেশার সঙ্গে জড়িরা জানান, বর্তমান আধুনিক যুগে প্লাস্টিক শিল্পের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মৃৎশিল্প হারিয়ে যাচ্ছে। একন আর মাটির তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে না। মাটির তৈরি জিনিসপত্র তৈরি ও বিক্রি না হওয়ায় এসব পেশার সঙ্গে জড়িত মৃৎশিল্পীরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। অনেকেই চরম কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুর মালেক বলেন, সরকারি নির্দেশনায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অনেক পরিবারকে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি এনজিওর মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/কেকে