দেশসেরা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ইউসুফের

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪৩

স্কুলজীবনে বহু পরীক্ষায় পাশ করতে হয়েছে বিশেষ বিবেচনায়। মেধাবী ছাত্র হিসেবে নাম নোটিশ বোর্ডে ওঠা দূরে থাক, থাকতেন তলানিতে। সবার পেছনে থাকা সেই ছেলেটিই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে হয়েছেন সবার সেরা। যার কথা বলছি, তিনি  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করা কাজী মুহাম্মদ ইউসুফ।  উচ্চশিক্ষার ফলাফলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়া ইউসুফ হতে চান দেশসেরা শিক্ষক।

স্নাতকে ৩.৯০ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করা ইউসুফ পড়াশোনা ছাড়াও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমানতালে সক্রিয় ছিলেন। দেশের সেবা করার নিমিত্তে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান শিক্ষকতায়, কারণ তিনি মনে করেন শিক্ষক হলে মানুষের খুব কাছাকাছি গিয়ে তার মধ্যে জ্ঞান পিপাসা তৈরি করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি তাই যখনই সুযোগ পেয়েছেন পাঠদান করেছেন ইচ্ছেমতো, হোক তা নিজের এলাকার কোনো স্কুল কিংবা কলেজে। নিজের ছাত্রছাত্রীদেরকে সবসময় পড়াশোনাকে উপভোগ্য করে চর্চা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আত্মোপলব্ধি জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। আর পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা হবার দীক্ষা নিতে হবে, এমনটাই মনে করেন ইউসুফ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে কয়েক বছর পড়াশোনা করেছেন মানুষের ট্যাক্সের টাকায়, আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই ভাবেন—পেশায় শিক্ষক হলে একসঙ্গে অনেকের মাঝে মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার সুযোগ পাবেন, যেটির মাধ্যমে কিছুটা হলেও মেটাবেন সমাজের ঋণ।

কাজী ইউসুফ তার সফলতার কৃতিত্ব দিতে চান মা-বাবা এবং প্রিয় শিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে। ইউসুফ বলেন, পরিশ্রম করলেই  ভাল ফলাফল করা সম্ভব। আগের কোন ফলাফল কেমন ছিল, সেটির উপর সামনের পরীক্ষার ফল নির্ভর করেনা। যেকোনো অবস্থা থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো যায়। আর পড়াশোনার পাশাপাশি ভাল মানুষ হয়ে ওঠার বিষয়টিতেও জোর দিতে হবে সমানভাবে, যেটি আমার পরিবার আমাকে সবসময়ই শিখিয়েছেন। আমি শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে একদিন দেশসেরা শিক্ষক হবার স্বপ্ন দেখি।

 

ইত্তেফাক/এসটিএম