বগুড়ায় পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৪৩

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পালটা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মোহনকে। অন্য আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামকে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মোটর মালিক গ্রুপের সর্বশেষ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া পুলিশ কনস্টেবল রমজান আলীর ওপর হামলার ঘটনায় করা আরেকটি মামলার বাদী বগুড়া উপশহর ফাঁড়ির পরিদর্শক নান্নু মিয়া। এই মামলায় মঞ্জুরুল আলম ছাড়াও যুবলীগের আরো পাঁচ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে বগুড়া শহর যুবলীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আদিলকে। এছাড়া এসব মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৪৭৫ জনকে।

এদিকে বুধবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞার আহ্বানে মোটর মালিক গ্রুপের একাংশের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলে। মোটর মালিক গ্রুপের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি শাহ আক্তারুজ্জামান ডিউকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশ সুপারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ূন কবির জানান, মঙ্গলবারের সংঘাতের ঘটনায় রাতেই বগুড়া সদর থানায় পালটাপালটি দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোটর মালিক গ্রুপের নেতা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মঞ্জুরুল আলমসহ ৫২ জনের নামোল্লেখ করে মামলা করেছেন। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২০০ জনকে। অন্যদিকে মঞ্জুরুল আলমের ছোট ভাই মশিউল আলম বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন। এই মামলায় আমিনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরো ৩৩ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কনস্টেবল রমজান আলী ছুরিকাহত হন।