অবাক পৃথিবী

বনভূমি ও মরুভূমি

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:০৫

পৃথিবী নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। জানা গেছে, পৃথিবীর মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মিলিয়ন হেক্টর অর্থাৎ ৩৭ হাজার মিলিয়ন একর। মোট ভূমির ৭৮ শতাংশ খুবই আর্দ্র, অনুপযুক্ত, ঠান্ডা, শুষ্ক কিংবা চাষাবাদের অনুপযোগী। মাত্র ২২ শতাংশ কার্যকরভাবে চাষযোগ্য। আর চাষযোগ্য প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন হেক্টর অর্থাৎ ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন একর জমির মধ্যে উচ্চ উত্পাদনশীল কিংবা মিশ্র প্রকৃতির জমিও অন্তর্ভুক্ত।

৪৪৭ মিলিয়ন হেক্টর বা ৩ শতাংশ জমি উচ্চ উত্পাদনশীল, ৮৯৪ মিলিয়ন হেক্টর বা ৬ শতাংশ জমি কোনোরকম উত্পাদনশীল, ১৯৩৭ মিলিয়ন হেক্টর বা ১৩ শতাংশ জমি আংশিক উত্পাদনশীল। তাছাড়া ৩৭২৫ মিলিয়ন হেক্টর বা ২৫ শতাংশ জমি খুবই শীতল, ২৬৮২ মিলিয়ন হেক্টর বা ১৮ শতাংশ জমি খুবই আর্দ্র বা নিম্নমানের এবং ৫২১৫ মিলিয়ন হেক্টর বা ৩৫ শতাংশ জমি খুবই শুষ্ক বা কঠিন। পৃথিবীতে মানুষের মাথাপিছু জমির পরিমাণ ০ দশমিক ২৬ হেক্টর।

মাত্র ২০০ বছর আগেও পৃথিবীর ৪৭ শতাংশ এলাকা বনভূমিতে পরিবেষ্টিত ছিল। বর্তমানে পৃথিবীর মাত্র ২৯ শতাংশ এলাকা জুড়ে বনভূমি রয়েছে। পৃথিবীর ভূমির ৬ শতাংশ এলাকা জুড়ে একসময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি ছিল। বর্তমানে তা ২ শতাংশে নেমে এসেছে। সারা বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ১০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জমি মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে! আফ্রিকাতে এ পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে অব্যাহত খরায় সাহারা মরুভূমি ক্রমাগত বাড়ছে। সাহারা মরুভূমি একসময় ছিল তৃণময় সবুজ বৃক্ষ আচ্ছাদিত উর্বর ভূমি।

রোমানরা এখানে চাষাবাদ করত। সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দ জুড়ে ঘানা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য সাম্রাজ্য। তবে একাদশ শতাব্দে এখানে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে থাকে। বর্তমানে সাহারা মরুভূমি আফ্রিকার সাহেল নামক স্থানের দিকে প্রতি বছর গড়ে ৫ কিলোমিটার হারে বিস্তৃত হচ্ছে।

গত ৩৩ বছর ধরে মৌরিতানিয়ায় ৭৫ শতাংশের বেশি তৃণভূমিতে মরুময়তার প্রক্রিয়া চলছে। আশির দশক জুড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বড় হ্রদ চাদের উপরিভূমি ১৭৮০০ বর্গকিলোমিটার থেকে ৩৯০০ বর্গকিলোমিটারের নিচে নেমে এসেছে। ফলে হ্রদের প্রান্ত এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। কেবল উষ্ণ আবহাওয়াসম্পন্ন এলাকাই নয়, আইসল্যান্ডের ব্যাপক এলাকাও শুষ্ক মরুতে পরিণত হয়েছে এবং আরও বিপজ্জনক হারে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর