চট্টগ্রামের মতোই স্পিন-নির্ভরতা, একাদশে এক পেসার, মন্থর উইকেটের কৌশল বহাল ছিল। মিডিয়াম পেস বোলিং করা সৌম্য সরকার থাকায় ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে অবশ্য পেসার ছিল ‘দেড়’ জন। দেড় পেসারের নিছক রসিকতা ছাপিয়ে গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বোলিংয়ে উজ্জ্বল রাহী-সৌম্যই।
তবে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খুব বেশি টলাতে পারেনি বাংলাদেশ। উইকেট আঁকড়ে থেকে ব্যাটিংয়ের সংকল্পে সফলতা পেয়েছেন উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। ১৭৮ রানে ৫ উইকেট পড়ার পরও এনক্রুমা বনারের হাফ সেঞ্চুরিতে স্বস্তি নিয়েই ফিরেছে দলটি। গতকাল প্রথম দিন শেষে ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২২৩ রান। বনার ৭৪ ও জশুয়া দা সিলভা ২২ রানে ব্যাট করছেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান রেট ছিল ২.৪৭। রান খুব বেশি হয়নি বলে তৃপ্তি পেতেও পারে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে প্রথম দিনে বেশ জমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। কোনো দলই একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি।
গতকাল টসে হেরে ফিল্ডিং করা বাংলাদেশের একাদশে ছিল তিন পরিবর্তন। ইনজুরিতে বাদ পড়া সাকিব-সাদমানের জায়গায় সৌম্য-মিঠুন এবং মুস্তাফিজকে বসিয়ে টেস্টের নিয়মিত পেসার রাহীকে সুযোগ দেওয়া হয়। এক টেস্ট পর একাদশে ফিরে বল হাতে নিজের কার্যকারিতা বুঝিয়েছেন তিনি। প্রথম সেশনে এলোমেলো থাকলেও লাঞ্চের পর দারুণ বোলিং করে ৪৬ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার।
দ্বিতীয় পেসারের ভূমিকায় থাকা সৌম্য পান ১ উইকেট। তবে ম্যাচে বাংলাদেশের বড় নির্ভরতা স্পিনাররা গতকাল কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। উইকেটের দেখা পাননি দুই অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। তাইজুল ইসলাম ৬৪ রানে দুটি উইকেট নেন।
দিনের প্রথম সেশনে ১ উইকেটে ৮৪ রান তুলেছিল উইন্ডিজরা। ইনিংসের ২১তম ওভারে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন তাইজুল। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে জন ক্যাম্পবেল ৩৬ রান করেন। লাঞ্চের পর ফিরে এসেই রাহীর বলে প্লেড অন হন শেন মোসলি (৭)। নিজের তৃতীয় ওভারেই ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েটকে ফেরান সৌম্য। ব্রেথওয়েট ৪৭ রান করেন। রাহীর দ্বিতীয় শিকার হন চট্টগ্রামে ডাবল সেঞ্চুরি করা কাইল মেয়ার্স (৫)। ১১৬ রানে ৪ উইকেট হারানো উইন্ডিজদের এগিয়ে নেয় এনক্রুমা বনার-জার্মেইন ব্ল্যাকউডের ৬২ রানের জুটি।
