বরগুনার শিক্ষক নাসির উদ্দিন হূদরোগে মারা যাননি, তাকে হত্যা করেছে তারই স্ত্রী মিতু এবং তার পরকীয়া প্রেমিক রাজু। রাজুর মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে ঐ শিক্ষককে হত্যার জন্য মিতুর সঙ্গে তার কথোপকথনের রেকর্ড, তাদের গোপন ষড়যন্ত্র। পুলিশের হাতে ঐ রেকর্ড আসার পর পরই পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ফাতেমা মিতু বরগুনা পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মাহতাব হোসেনের মেয়ে এবং রাজু সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া এলাকার বারেক মিয়ার ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করায় দুই জনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নাসিরের বড় ভাই আবদুল জলিল হাওলাদার বাদী হয়ে মিতু ও রাজুকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গত বছরের ২৩ মে রাতে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দিন মারা যান। তার স্ত্রী মিতুর কাছে নাসিরের হূদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার মরদেহের দাফন সম্পন্ন করেন স্বজনরা। ঘটনাচক্রে ৯ মাস পর মিতুর পরকীয়া প্রেমিক রাজুর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনে নাসিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথোপকথনের রেকর্ডিং পান নাসিরের স্বজনরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন এবং পুলিশের হাতে সেই মোবাইল ফোনটি তুলে দেন নাসিরের বড় ভাই জলিল হাওলাদার। এর পরই গতকাল অভিযান চালিয়ে রাজু ও মিতুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নাসির-মিতু দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। ফাতেমা মিতু তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, তাদের পরকীয়া সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে দুই জনে মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। মিতু আরো জানান, ২৩ মে বিকালে ঘুমের ওষুধ কিনে রাজু তাকে দিয়ে আসেন। সন্ধ্যার পরে নাসির মজা করে কাঁঠাল খান। ঘুমের আগে কৌশলে নাসিরকে অতিরিক্ত পরিমাণ ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় মিতু। রাত ১১টার পর রাজুকে মোবাইলে সে জানায়, ‘নাসির ঘুমিয়ে পড়েছে তুমি চলে আসো।’ রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিতু ও রাজু মিলে নাসিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
রাজু জানিয়েছেন, নাসির তাদের সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। সপ্তাহ খানেক আগে তার মোবাইল ফোনটি হারিয়ে ফেলে। সেই হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটিই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
বরগুনা থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজুর মোবাইল ফোনটি ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকখালী বাজারের এক দোকানদার পায়। ঐ মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডে হত্যার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ পায়।
বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, মিতু ও রাজু দুই জনই তাদের কাছে নাসিরকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
