যে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:১৪

পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। এই বাজেট অধিবেশনেও ভাষার প্রশ্নে, ১৪৪ ধারা জারির প্রশ্নে সরকার পক্ষ ও স্পিকার সবাই সরাসরি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থেকে দূরে থাকেন।

পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর গুলি চললে বিধান পরিষদে এ নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে এটা ঠিক এত দিন পর বিধান পরিষদের সে উত্তেজনার উত্তাপ উপলব্ধি করা কঠিন।

প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী নুরুল আমিন ঐ দিন ১৯৫২-৫৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন। এ সময় নাজমুল হক জানতে চান সরকার ভাষা কমিটির সুপারিশসমূহ গ্রহণ করেছে কি না। উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী আবদুল হামিদ জানান যে তা গৃহীত হয়নি। বিবেচনায় রয়েছে। আনোয়ারা খাতুন মুলতুবি প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী শেখ মুজিবুর রহমান অনশন করছেন, জনগণ তার সম্পর্কে উদ্বিগ্ন।

প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের বিরোধিতায় এ প্রস্তাব অগ্রাহ্য হয়। এরপর খয়রাত হোসেন অপর মুলতুবি প্রস্তাবে পাকিস্তান অবজারভার বন্ধের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতায় সেটিও নাকচ হয়ে যায়।

পর দিন ২১ ফেব্রুয়ারি যখন বিধান পরিষদের অধিবেশন শুরু হয় তখন বাইরে প্রচণ্ড আন্দোলন চলছে। অধিবেশনের শুরুতেই মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যখন দেশের ছাত্ররা, যারা আমাদের ভাবী আশাভরসাস্থল, পুলিশের গুলির আঘাতে জীবন-লীলা সাঙ্গ করছে, সেই সময় আমরা এখানে সভা করতে চাই না। প্রথমে এনকোয়ারি হোক তারপর হাউজ চলবে।’

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বলেন, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রভাষার দাবি জানাচ্ছিল। পুলিশ সেখানে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে ও গুলি করেছে। শুধু তাই নয়, তারা অসংখ্য ছাত্রকে বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার ও অপমানের। এ অবস্থায় এই অধিবেশন চলার কোনো মানে হয় না।

এ প্রসঙ্গে বশীর আল্ হেলালের ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’ গ্রন্থে কংগ্রেস দলের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন ধর জানিয়েছেন, ‘বেলা আড়াইটার দিকে তিনি আর হুইপ গোবিন্দলাল ব্যানার্জি রিকশায় করে আসছিলেন। এ সময় মেডিক্যাল কলেজের গেটের সামনে কয়েক জন ছাত্র তাদের থামান। তখনই তারা জানতে পারেন পুলিশের টিয়ার সেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ, গ্রেফতারের কথা। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ছাত্রদের নাম, ধাম টুকে নিয়ে আমরা অধিবেশনে যোগ দিই।’

ইত্তেফাক/এএএম