আবুল কাসেম ভুঁইয়া
বাংলাদেশে উত্পাদিত উন্নতমানের আকর্ষণীয় ফুলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে গ্লাডিওলাস ফুল। গ্লাডিওলাস ফুলের বেশ কদর রয়েছে। অপেক্ষাকৃত দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও এর বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। আমাদের দেশে গ্লাডিওলাস ফুলের চাহিদা থাকার কারণে আগে দেশের বাইরে থেকে এই ফুল আমদানি করা হতো। বর্তমানে আমাদের দেশের কৃষকরা এই ফুল চাষ করে লাভবান হওয়ায় এর ব্যাপক ভিত্তিতে চাষ শুরু করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ফুলের চাষ হচ্ছে। গ্লাডিওলাস ফুল চাষের জন্য আমাদের দেশের মাটি এবং জলবায়ু খুবই উপযোগী। এই ফুল চাষের জন্য আর্দ্র এবং ঠান্ডা আবহাওয়া দরকার। ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। চাষের জন্য পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর প্রয়োজন হয়। কারণ ছায়াযুক্ত স্থানে এ ফুল ভালো হয় না। যে কোনো ধরনের মাটিতে এই ফুলের চাষ করা সম্ভব। তবে বেলে-দোআঁশ মাটি বেশ উপযোগী।
এই ফুল চাষের উত্তম সময় হচ্ছে মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর মাস পর্যন্ত। ৩০ সেন্টিমিটার দূরে প্রতিটি চারা রোপণ করতে হবে। জমিতে হেক্টরপ্রতি ১০ টন পচা গোবর, ২০০ কেজি ইউরিয়া, ২২৫ কেজি টিএসপি এবং ১৯০ কেজি এসপি দিতে হবে। গোবর, টিএসপি, এসপি জমি তৈরির সময় ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সারকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে গাছের চার পাতা বের হওয়ার পর অর্থাত্ স্পাইক বের হওয়ার সময় খারির দুই পাশে পাঁচ সেন্টিমিটার গভীরে সার প্রয়োগ করতে হবে। জমির মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রস থাকতে হবে। তাই প্রয়োজনমতো সেচ দিতে হবে। সাধারণভাবে চারা রোপণের পর হাল্কা সেচ দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া বুঝে ১০-১৫ দিন অন্তর অন্তর হাল্কা সেচ দিতে হবে।
এই ফুলের গাছের সঠিক পরিচর্যা হলো গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া। জমিকে সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। আগাছা মুক্ত রাখার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে অঙ্কুরোদ্গমে কোনো ক্ষতি না হয়। বর্ষার সময় গাছ যাতে পড়ে না যায় সেজন্য সারিতে দুই মিটার দূরে দূরে বাঁশের কাঠি পুঁতে দিতে হবে। তবে গাছ ঘনঘন রোপণ করলে বাঁশের কাঠির প্রয়োজন পড়ে না। চারা রোপণের পর জাতভেদে ৭৫-৯০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে। হেক্টরপ্রতি জমিতে প্রায় ২৪ টন ফুল বা স্টিক পাওয়া যায়। গ্লাডিওলাস ফুল চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে ফুলচাষিরা বেশ লাভবান হবেন। এর উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
