গ্রেফতারের পাঁচ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন সিকদার গ্রুপের এমডি

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৬

বিদেশ থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার নেমেই এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার হন সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার। গ্রেফতারের পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালত তাকে জামিনের আদেশ দেন। এই মামলায় আদালত আসামি রন হক সিকদারকে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন  দিয়েছেন। শুক্রবার গ্রেফতারের পর রন হক সিকদারকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। অন্যদিকে, আসামির পক্ষে জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রন হক সিকদারের জামিন মঞ্জুর করেন।

রন হক সিকদার গ্রেফতারের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আমি পুলিশকে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের জন্য তো আর অন্য আইন প্রয়োগ হবে না। যেটা নিয়ম, সেটাই প্রয়োগ হবে। তাদের নামে হুলিয়া ছিল। পুলিশ আমার কাছে জানতে চেয়েছিল। আমি তাদের বলেছি, তাদের নামে তো গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই পুলিশকে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

পুলিশ জানিয়েছে, বাবার মৃত্যুর কারণে রন হক সিকদার ঢাকায় আসেন। একটি হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাকলায়েন বলেন, এক্সিম ব্যাংকের করা একটি মামলায় রন হককে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই মামলার অপর আসামি রন হক সিকদারের ভাই দিপু হক সিকদার এখনো দেশে ফেরেননি। দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ১৯ মে ঐ মামলা করা হয়। এর কয়েকদিন পরে ২৬ মে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কথা বলে করোনাকালীন লকডাউনের মধ্যে চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক চলে যান।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, গত ৭ মে রন ও দিপু এক্সিম ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বন্দি করে রাখেন। তাদের গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নির্যাতন করা হয়েছে, উল্লেখ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, পরে সাদা কাগজে সই নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সিকদার গ্রুপ ব্যাংকটির কাছে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব দিলে এর বিপরীতে গ্রুপের বন্ধকি সম্পত্তি পরিদর্শনে যান ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। সে সময় এ ঘটনা ঘটে।

মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্রুপের এমডির দাবির তুলনায় বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য কম ছিল। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তাদের একটি অ্যাপার্টমেন্টে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। তাদের গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয় ও সাদা কাগজে সই নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই মামলার দুই অভিযুক্ত রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার পলাতক ছিলেন।

বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার দুবাইর একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত বুধবার মারা যান। জয়নুল হক সিকদার ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। আর তার ছেলে রন হক সিকদার ঐ ব্যাংকের পরিচালক।