বেকারত্ব একটা অভিশাপের নাম। দেশে বর্তমানে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬-২৭ লাখ। দেশের জনগণের এত বড় একটা অংশ বেকার থাকার পিছনে কোন বিষয়টা আসলে দায়ী?
একটা মানুষের চাকরির ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সেই শিক্ষাব্যবস্থায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যবহারিক শিক্ষা। ব্যাবহারিক শিক্ষা বলতে মূলত বুঝায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের হাতে-কলমে প্রয়োগ। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাবহারিক শিক্ষা তেমন নেই বললেই চলে। তাই বেকার সৃষ্টির পিছনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এমন অবস্থাকে দায়ী করা যায়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মক্ষেত্রের জন্য শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত করা। তবে আমাদের দেশ শিক্ষিত জনবল তৈরি করতে পারলেও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে পারছে না। কারণ আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ। ব্যাবহারিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার নেই কোনো তেমন একটা ব্যবস্থা।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে জরুরি বাজেট বরাদ্দের বিষয়। যেখানে কেনিয়ার মতো দেশ তাদের মোট বাজেটের ৪৫ শতাংশ শিক্ষার জন্য ব্যয় করে, সেখানে আমাদের দেশের শিক্ষার ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ ১১-১২ শতাংশ। শিক্ষাব্যবস্থায় এত কম বাজেট আমাদের দেশকে পিছিয়ে রেখেছে। কারণ বাজেট কম বরাদ্দ দেওয়াতে ব্যাবহারিক শিক্ষার পিছনে যে টাকা ব্যয় করা দরকার, তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো করতে পারছে না।
শিক্ষা হলো মূল বিনিয়োগের জায়গা। এই কাজের বড় অংশ জুড়ে যেহেতু থাকবে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং, প্রবলেম সলভিং, কমিউনিকেশন দক্ষতা, তাই শিক্ষাকেও বের করতে হবে মুখস্থ, গতানুগতিক প্রশ্ন-উত্তরের কবল থেকে। এই খাতে তাই বেশি বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। যার ফলে সম্ভব হবে ব্যাবহারিক শিক্ষা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব স্থাপন এবং আইটি সরঞ্জার ক্রয় করার। এতে পড়ালেখা শেষ করে বসে থাকতে হবে না কোনো শিক্ষার্থীকে। এই ব্যাবহারিক শিক্ষা তাকে স্বাবলম্ব্বী হতে সহায়তা করবে। তাত্ত্বিক জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ হয় ব্যাবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে। একটা জাতি ব্যাবহারিক শিক্ষায় যত শক্তিশালী হবে, সেই জাতি নিজের বেকারত্ব দূর করার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে দেশকে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। তবে আমাদের দেশের ব্যাবহারিক শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা কম থাকার কারণে দেশ পিছিয়ে রয়েছে এবং পিছিয়ে রয়েছে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। যার ফল স্বরূপ পৃথিবীর ১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই আমাদের দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়।
তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবধর্মী ও ব্যাবহারিক শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার। যেটার মাধ্যমে দূর হবে বেকারত্ব। এতে কোনো শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়তে হবে না চাকরির বাজার থেকে। তাই শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। পুথিগত মুখস্থ বিদ্যার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এর সঙ্গে সরকারের মনোনিবেশ করতে হবে চাকরির বাজারের দিকে এবং গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে সহজ ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। চাকরির বাজার সৃষ্টিতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের উত্সাহিত করতে হবে। যাতে তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে অধিক চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয়।
মানসম্মত জাতি তৈরি করতে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত জনশক্তি। আর ঐ প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরি করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাবহারিক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করতে হবে। এতে অনেকটা গুছে আসবে বেকারত্ব।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
