রাজধানীর ফেনসিডিল কারবারিরা কাওরান বাজারকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। বাস ও ট্রেনযোগে সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল বহন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা কাঁচামাল বহনকারী ট্রাককে নিরাপদ বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানে প্রতি রাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে কাঁচামাল বহনকারী কয়েক শ ট্রাক । রাতে কাঁচামাল নামিয়ে রাতেই চালকরা ট্রাক নিয়ে ফিরে যায় যার যার এলাকায়। আর এ কারণে কাঁচামালের ট্রাকে করে ফেনসিডিলের চালান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাওরান বাজার। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে ফেনসিডিল কারবারি নূরে আলম ওরফে লিটন মোড়ল ও ট্রাকচালক সুজন হোসেন। ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে আলুভর্তি ট্রাকসহ তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয় চার বস্তায় রাখা ১ হাজার ১০০ বোতল ফেনসিডিল। শুক্রবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ডিবি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান।
অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নূরে আলম ওরফে লিটন মোড়লের বাড়ি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এলাকায়। অন্যদিকে ট্রাকচালক সুজন হোসেনের বাড়ি জয়পুরহাটে। আসামিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ফেনসিডিলের মূল মালিক জয়পুরহাট এলাকার মাদক কারবারি জনৈক মামুন। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে বাস ও ট্রেনযোগে ফেনসিডিল বহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে কাঁচামাল বহনকারী ট্রাকে করে ফেনসিডিল বহনের জন্য নিরাপদ বাহন হিসেবে বেঁচে নিয়েছে। বিশেষ করে জয়পুরহাট এলাকা থেকে আলুর চালান বেশি আশে কাওরান বাজারসহ নগরীর অন্যান্য মার্কেটে। এ কারণে আলুর বস্তায় করে তারা ফেনসিডিল চালান ঢাকায় নিয়ে আসে। কাওরান বাজারে ফেনসিডিল চালান নামানোর পর তা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানো হয়।
ট্রাকচালক সুজন জানিয়েছে, সে ফেনসিডিল কারবারের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে ট্রাকভর্তি (৫০/৫৫ বস্তা) আলু বাবদ ভাড়া পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। কিন্তু এক বস্তা ফেনসিডিল বহন করতে পারলে পাওয়া যায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে। ফলে টাকার লোভে সে ফেনসিডিল বহন করে থাকে মাঝেমধ্যে।
অন্যদিকে নূরে আলম ওরফে লিটন মোড়ল জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীতে ইয়াবার সরবরাহ কিছু কমে যাওয়ায় ফেনসিডিলের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে ফেনসিডিল সরবরাহও বেড়েছে। প্রতি বোতল ফেনসিডিল সীমান্ত এলাকা থেকে কেনা হয় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। ঢাকায় আনার পর তা পাইকারি দরে বিক্রি হয় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে। আর খুচরা বিক্রেতারা বিক্রি করে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। ডিবির উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সবজিভর্তি ট্রাকের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল জয়পুরহাট জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করে আসছিল চক্রটি। এ চক্রের অন্য সদস্যদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
