দায়িত্বহীন ব্যাটিং ব্যাটসম্যানদের

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:২০

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কঙ্কালসার পারফরম্যান্সের ছবিটা আবারও উন্মোচন করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পূর্ণ শক্তির দল ছাড়া এসেও দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশকে ২-০ তে হারিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। চট্টগ্রামের পর ঢাকায় গতকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনে ১৭ রানের দুরন্ত জয় তুলে নিয়েছে ক্রেইগ ব্রেথওয়েটের দল।

স্কিল, মানসিকতার ঘাটতি প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে বাংলাদেশ দলে। টেস্টে ব্যাটিংয়ের মূলমন্ত্র ধৈর্যের বালাই নেই ব্যাটসম্যানদের মাঝে। অভিজ্ঞ, তরুণ সবাই গণহারে উইকেট বিলিয়ে আসার প্রতিযোগিতায় মত্ত। দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের মিছিল বয়ে আনছে একের পর এক পরাজয়।

তৃতীয় দিনের বিকাল থেকেই মিরপুরের উইকেটে টার্ন দেখা দিয়েছিল। গতকাল চতুর্থ দিনে ১৭ উইকেটের পতন হয়েছে। যার মধ্যে ১৫ উইকেটই স্পিনারদের দখলে। কর্নওয়াল, ওয়ারিকানদের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন মুমিনুল-মুশফিকরা। পার্ট টাইম অফস্পিন করা ব্রেথওয়েটকেও খালি হাতে ফেরায়নি তামিমরা। দুই ওপেনারের পর নাঈমকেও ফেরান ব্রেথওয়েট। ২৩১ রানের জয়ের টার্গেটে খেলতে নেমে ২১৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে স্বাগতিকরা।

ওপেনিংয়ে তামিম-সৌম্যর জুটি থেমেছে ৫৯ রানে। সৌম্য উইকেটের পেছনে, তামিম শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে ফিরেছেন। প্রতিভাবানের বর্ম নিয়ে খেলা শান্ত টানা ৭ ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছেন। অভিজ্ঞতার মোড়ক বয়ে বেড়ানো মুশফিক, মুমিনুল ওয়ারিকানের শিকার হয়েছেন। প্রথম ইনিংসে রিভার্স সুইপের আনাড়িপনা দেখিয়ে দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়েছিলেন মুশফিক।

কর্নওয়ালের লাফিয়ে উঠা বলে মিঠুন, কাট করতে গিয়ে লিটন ক্যাচ দেন। মিরাজের ৩১ রানের ইনিংসটা হার এড়ানোর অবলম্বন হয়নি। ম্যাচ শেষে তাই সবার মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে এমন কান্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিং আর কত? টেস্টে ২০ বছরের পথচলার পরও দায়িত্বহীনতার সংস্কৃতিতে ডুবে আছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

গতকাল অধিনায়ক মুমিনুলও স্বীকার করলেন এ ফরম্যাটে বলার মতো উন্নতি হয়নি বাংলাদেশ দলের। তিনি বলেছেন, ‘আসলেই ২০ বছর হয়ে গেছে। তবে আমার মনে হয় ঐভাবে কোনো উন্নতিই হয়নি। আর উন্নতির শেষ নেই। আমরা যতদিন খেলব, যতদিন বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করব, ততদিন উন্নতি করতে হবে।’

ব্যাটিংয়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়াকেই হারের কারণ বলেছেন মুমিনুল। তিনি বলেছেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা ভেঙে পড়েছি। সেখান থেকে আমরা ফিরতে পারিনি। প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ইনিংস বলেন।’ নেতৃত্বের ছোট অধ্যায়ে দেশে, বিদেশে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত অভিজ্ঞতা হজম করলেন মুমিনুল। বড় ইনিংস খেলার অভ্যাস গড়ে ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।

স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

দ্বিতীয় টেস্ট, চতুর্থ দিন

ভেন্যু: শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা।

টস: ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৪০৯

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৯৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস

(তৃতীয় দিন শেষে ৪১/৩; বনার  ৮*, ওয়ারিকান ২*)

                                    রান বল  চার ছয়

বনার ব নাঈম                              ৩৮  ১২০    ৩    ০

ওয়ারিকান এলবিডব্লিউ ব রাহী        ২      ২২     ০    ০

মেয়ার্স এলবিডব্লিউ ব রাহী             ৬      ১৬     ১    ০

ব্ল্যাকউড স্টাম্পিং লিটন ব তাইজুল    ৯      ১০     ০    ১

দা সিলভা ক সৌম্য ব তাইজুল         ২০   ৫৩     ৪    ০

জোসেফ ক নাজমুল ব তাইজুল        ৯       ৮      ০    ১

কর্নওয়াল ক মুশফিক ব নাঈম          ১       ৫      ০    ০

গ্যাব্রিয়েল অপরাজিত                    ১       ২      ০    ০

মোট (৫২.৫ ওভারে অলআউট)    ১১৭

উইকেট পতন: ৪-৫০ (ওয়ারিকান), ৫-৬২ (মেয়ার্স), ৬-৭৩ (ব্ল্যাকউড), ৭-১০৪ (দা সিলভা), ৮-১১৪ (জোসেফ), ৯-১১৬ (বনার), ১০-১১৭ (কর্নওয়াল)।

বোলিং: তাইজুল ২১-৪-৩৬-৪, নাঈম ১৫.৫-৫-৩৪-৩,  মিরাজ ৬-১-১৫-১, রাহী ১০-৪-৩২-২।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৩১)

তামিম ক মোসলি ব ব্রেথওয়েট         ৫০   ৪৬     ৯    ০

সৌম্য ক কর্নওয়াল ব ব্রেথওয়েট       ১৩   ৩৪     ১    ০

নাজমুল ক মোসলি ব কর্নওয়াল        ১১    ৩১     ২    ০

মুমিনুল ক কর্নওয়াল ব ওয়ারিকান     ২৬    ৬৮     ৩    ০

মুশফিক ক দা সিলভা ব ওয়ারিকান   ১৪   ৩০     ১    ০

মিঠুন ক বনার ব কর্নওয়াল              ১০   ১২     ০    ১

লিটন ক দা সিলভা ব কর্নওয়াল        ২২   ৩৫     ০    ০

মিরাজ ক কর্নওয়াল ব ওয়ারিকান     ৩১   ৫৬     ৩    ২

তাইজুল এলবিডব্লিউ ব কর্নওয়াল     ৮     ২৫     ০    ০

নাঈম এলবিডব্লিউ ব ব্রেথওয়েট       ১৪   ১৯     ১    ০

রাহী অপরাজিত                           ০     ১৪     ০    ০

অতিরিক্ত (বা ৮, লেবা ৪, নো ২)    ১৪

মোট (৬১.৩ ওভারে  অলআউট)    ২১৩

উইকেট পতন: ১-৫৯ (সৌম্য), ২-৭০ (তামিম), ৩-৭৮ (নাজমুল), ৪-১০১ (মুশফিক), ৫-১১৫ (মিঠুন), ৬-১৪৭ (মুমিনুল), ৭-১৫৩ (লিটন), ৮-১৬৩ (তাইজুল), ৯-১৮৮ (নাঈম), ১০-২১৩ (মিরাজ)।

বোলিং : কর্নওয়াল ৩০-১০৫-৪,  জোসেফ ২-০-১৬-০, গ্যাব্রিয়েল ২-০-৮-০, ওয়ারিকান ১৬.৩-৪-৪৭-৩,  ব্রেথওয়েট ১১-১-২৫-৩।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৭ রানে জয়ী।

সিরিজ: ওয়েস্ট ২-০ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: রাকিম কর্নওয়াল।

সিরিজ সেরা: এনক্রুমা বনার।