বসন্ত-ভ্যালেন্টাইন যুগল দিবস বরণে ছিল না বর্ণাঢ্য আয়োজন, বাড়ে ফুল বিক্রি

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৫

বাংলা পঞ্জিকার সংশোধনে গতকাল পয়লা ফাল্গুন বসন্ত ও সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হলো একই দিনে। করোনার কারণে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণে প্রতি বছরের মতো বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। উত্সবের আমেজ ছিল না চারুকলার বকুলতলা থেকে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, উত্তরার রবীন্দ্র স্মরণীতে। বইমেলা না থাকায় মেলার আনন্দ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না পাওয়ায় এবার চারুকলার বকুলতলায় বসন্ত উদ্যাপন করতে না পেরে আয়োজক কমিটি সীমিত পরিসরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান করে। তবে লোক সমাগম কম ছিল। করোনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও বরাবরের মতো অনেকে প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরেছে ক্যাম্পাসে। নগরীর অনেকে অপরাহ্নে পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ফলে ভয়াবহ যানজটে নাকাল হতে হয় মানুষকে।

’উত্তুরে হিমেল হাওয়া থেমে গেল; দখিনা বাতাসে ঘুচে গেল পাতা ঝরার রিক্ত-বেদনা, নগরে এল বসন্ত’-এমন আবহ বিরাজ করে নগরীর উদ্যান ও বিনোদন স্পটগুলোতে। নারীরা সেজেছিল বাসন্তী রঙে, পরনে বাসন্তী রং শাড়ি। খোঁপায় প্যাঁচানো গাঁদা ফুলের বন্ধনী মাথায় ফুলের টায়রা, হাতে ফুলের মালা আর কাঁচের চুড়িতে চিরায়ত বাঙালি সাজ। ছেলেরাও লাল, কমলা, বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি পরেন।

নগরীর অনেকেই কোন আয়োজনে না গিয়েও বসন্তের উদাসী হাওয়া গায়ে মেখে ঘুরে বেড়িয়েছেন আপন খেয়ালে। শাহবাগসহ রাজধানীর ফুলের দোকানগুলোয় ঋতুরাজ উদ্যাপনের সৌন্দর্যময় দৃশ্যপট ছিল। এসব পুষ্পবিতান থেকে গোলাপ, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা ফুলে গড়া মালা, বন্ধনী কিংবা টায়রা সংগ্রহ করেন নারীরা। কেউবা বাসন্তী সাজে আবার কেউবা গালে রঙ দিয়ে লেখে ‘শুভ বসন্ত’ ‘হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে’।

প্রণয় পতিত যুগলরা ভ্যালেন্টাইন দিবসকে উপলক্ষ্য করে প্রিয়জনের হাতে গোলাপ কিংবা উপহার দিয়ে জানান দেয় নিজ ভালোবাসার। কিউপিড আকৃতির বেলুনও পরস্পরকে দেন তারা। দুই দিবস একসঙ্গে হওয়ার পরও এ বছর ফুলের বিক্রি আশানুরূপ ছিল না বলে জানান শাহবাগের দোকানিরা। গোলাপের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি ছিল।